হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় প্রিয় পোষ্যের মৃত্যু! চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে পুলিশের দ্বারস্থ দক্ষিণ কলকাতার বাসিন্দা এক মহিলা। তদন্ত শুরু করেছে সার্ভে পার্ক থানার পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, ওই মহিলার অভিযোগ অনুযায়ী গত ৫ জুলাই তাঁর প্রিয় পোষ্য, সাত বছর বয়সের জার্মান শেফার্ডকে অসুস্থ অবস্থায় সার্ভে পার্ক এলাকার একটি বেসরকারি পশু হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেদিন থেকে গত ১১ জুলাইয়ের মধ্যে প্রত্যেকদিনই তাঁকে ভিডিওকলে দেখানো হয়। বলা হয় যে, তাঁর পোষ্য চিকিৎসায় সাড়া দিয়ে ধীরে ধীরে সুস্থ হচ্ছে ও খাওয়াদাওয়া করছে। কিন্তু ১২ জুলাই যখন তিনি নিজে হাসপাতালে পোষ্যকে দেখতে যান, তখনই দেখতে পান যে তার অবস্থা ভাল নয়। তার শরীরে পোকা বাসা বেঁধে ডিম পেড়েছে! কেনেলটি স্বাস্থ্যসম্মত নয়, এই অভিযোগ জানালেও কর্তৃপক্ষ কানে তোলেনি বলেই অভিযোগ। পরের দিন পরিবারের লোকেদের জানানো হয় যে, তাঁদের পোষ্যর মৃত্যু হয়েছে। তারও দু’দিন পর ১৫ জুলাই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ডেথ সার্টিফিকেট দেয়। তাতে উল্লেখ ছিল যে, হৃদরোগের কারণেই কুকুরটির মৃত্যু হয়। তার অন্যান্য রোগগুলির কথা ওই শংসাপত্রে উল্লেখ করা হয়নি।
৩৫ হাজারা টাকা খরচ করলেও চারপেয়ে সন্তানকে ঘরে ফেরাতে পারেনি ওই মহিলা। এরপরই হাসপাতালের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত। শনিবার সার্ভে পার্ক থানায় পরিবারের তরফে অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগকারী পুলিশকে বলেন, হাসপাতালে ভর্তি থাকাকালীন তাঁর পোষ্যর যাবতীয় সিসিটিভি ফুটেজ যেন সংগ্রহ করে খতিয়ে দেখা হয়। সঙ্গে দেখা হয় হাসপাতালের যাবতীয় নথি। চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্মীদের বক্তব্য রেকর্ডও করার অনুরোধ করা হয়েছে। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মামলা রুজু করেছে। পুলিশের মতে, চিকিৎসার গাফিলতির কারণে কোনও মানুষের মৃত্যুর ক্ষেত্রে মেডিক্যাল বোর্ড তৈরি করা হয়। এই ক্ষেত্রেও মেডিক্যাল বোর্ড তৈরি করেই নথিগুলি খতিয়ে দেখার ব্যাপারে পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
