বড় শিল্পে বিনিয়োগে দেশি-বিদেশি বা ভিন রাজ্যের বড় সংস্থাগুলি যেমন অগ্রাধিকার পাবে, তেমনই মাঝারি ও ক্ষুদ্র শিল্পে স্থানীয়ভাবে অগ্রাধিকার পাবেন শুধুমাত্র বাঙালি ব্যবসায়ীরা। রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত (Swapan Dasgupta)। জানিয়েছেন, একে একে শিল্প-বাণিজ্য নীতি, ইনসেনটিভ নীতি, জমি নীতি, বিনিয়োগ নীতি সামনে আসছে। পরস্পরের সামঞ্জস্যে সে সব নীতি দ্রুত তৈরি হবে। জমি নীতির ক্ষেত্রে একটি ভাবনা সামনে রেখেছেন পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষ। শিল্প-বাণিজ্য উদ্যোগপতিদের কাছে সরকারের আবেদন, যে ব্যক্তির থেকে বাণিজ্য বা শিল্পের স্বার্থে জমি নেওয়া হবে, তাঁকেও ওই শিল্পের অংশীদার করতে হবে। সঙ্গে তাঁর পরিবারের কাউকে দিতে হবে চাকরি। সব দপ্তরের সমন্বয়ের রাজ্যের শিল্প-বাণিজ্য নীতি নির্ধারণে আরও একমাস সময় চাইলেন অর্থমন্ত্রী।
শহর-শহরতলিতে নতুন শিল্পদ্যোগ গড়ে তুলতে 'আরবান ল্যান্ড সিলিং' প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।
বণিকসভা বেঙ্গল বিজনেস কাউন্সিলের বার্ষিক কনক্লেভে শনিবার বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে যোগ দিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী ছাড়াও শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়, পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষ। ছিলেন নীতি আয়োগের ভাইস চেয়ারম্যান অশোক লাহিড়ী, প্রাক্তন ক্রিকেট অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। অর্থমন্ত্রী সেখানেই জানান, মাঝারি ও ক্ষুদ্র শিল্পের ক্ষেত্রে বহু উদ্যোগপতির অনেক ক্ষেত্রে অনেক কিছু বকেয়া রয়ে গিয়েছে। কোথাও কোনও প্রকল্প মাঝপথে গিয়ে থমকে গিয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, "বিগত সরকার এমন ব্যবস্থা করেছিল যাতে কোনও উদ্যোগপতির সঙ্গে শুরু করা কোনও প্রকল্প মাঝপথে বন্ধ হয়ে গেলে তার 'রেট্রোস্পেক্টিভ এফেক্ট' হত। পুরনো প্রকল্পের ক্ষেত্রেও বকেয়া রেখে দেওয়া হত। সেগুলো আমরা মেটাব। আগে মাঝারি ও ক্ষুদ্র শিল্পদ্যোগীদের জন্য করব। কারণ তাঁদের না দেখলে বাংলার 'ব্যাকবোন' পথে বসে যাবে।" এর সঙ্গেই বলেন, "স্থানীয় 'রেজিস্টার্ড বাঙালি ব্যবসায়ী'দের হাতেই থাকবে স্থানীয়ভাবে গড়ে ওঠা উদ্যোগ। তবে সবটাই তাদের হাতে থাকবে না। বড় শিল্প বাইরে থেকেও আসবে। এতেই রাজ্যের লাভ। বাংলার বাঙালির লাভ।"
শহর-শহরতলিতে নতুন শিল্পদ্যোগ গড়ে তুলতে 'আরবান ল্যান্ড সিলিং' প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। অর্থমন্ত্রীর কথায়, "অন্যান্য রাজ্যে আগেই এ জিনিস হয়ে গিয়েছে। এ রাজ্যেও তা আমরা করব। তবে ১৫ আগস্টের মধ্যে শিল্প-বাণিজ্য নীতি ঘোষণার কথা ছিল। কিন্তু একটু জটিল পরিস্থিতিতে রয়েছে। আমরা এটা ১৫ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে করার চেষ্টা করছি।” এর সঙ্গেই জমি নীতির ক্ষেত্রে শংকর ঘোষের পরামর্শ, "আমরা শিল্পদ্যোগীদের জানিয়েছি, জমি যিনি দেবেন তাঁকে ওই জমিতে তৈরি নির্দিষ্ট শিল্পের সঙ্গে 'স্টেক হোল্ডার' করতে হবে। তাঁর পরিবারের কাউকে সেই শিল্পেই চাকরি দিতে হবে। এইটা ভাবতে হবে বিনিয়োগকারীদের।"
