কয়লা পাচার কাণ্ডে বিজেপি যোগ! মঙ্গলবার দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদের পর কয়লা পাচার মামলায় চিন্ময় মণ্ডল এবং কিরণ খাঁকে গ্রেপ্তার করে ইডি। ধৃত দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বিজেপির এক শীর্ষ এক নেতার নাম উঠে এসেছে বলে বিস্ফোরক দাবি তৃণমূলের অন্যতম রাজ্য সাধারণ সম্পাদক তথা দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষের। সূত্র উল্লেখ করে সমাজমাধ্যমে তাঁর দাবি, মাসে মাসে ওই নেতার কাছে বিপুল টাকা যেত। এরপরেই তাঁর বয়ান রেকর্ডের জন্য নোটিস জারি করতে চলেছে ইডি। খবর পেয়েই ওই নেতা সামাল দিতে মঙ্গলবার দিল্লি গিয়েছিলেন। আর তা তুলে ধরেই কুণাল ঘোষের প্রশ্ন, 'বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে ইডি ব্যবস্থা নেবে? নাকি যে কোনও মুহূর্তে দিল্লি থেকেই রাজনৈতিক রক্ষাকবচ এসে যাবে?'
সামনেই বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন। তার আগেই কয়লা পাচার মামলায় সক্রিয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। কলকাতার একটি কয়লা পাচার মামলায় মঙ্গলবার চিন্ময় মণ্ডল এবং কিরণ খাঁকে গ্রেপ্তার করে ইডি। দুজনেই সম্পর্কে মামা-ভাগ্নে। বাম আমলেই অবৈধভাবে কয়লা কারবার শুরু চিন্ময় মণ্ডল ও কিরণ খাঁয়ের। তারপর ফুলে ফেঁপে ওঠেন দু'জনে। শুধু কয়লা নয় বালি কারবারেও জাল বিস্তার করেন। হয়ে ওঠেন 'বাদশা।'
জানা যায়, কয়লা মাফিয়া চিন্ময় মণ্ডল পুরুলিয়া জেলায় বাড়ি বাসিন্দা। তবে তাঁর দুর্গাপুর সিটি সেন্টারের অম্বুজা নগরী এবং বিধাননগরে দু'টি অফিস রয়েছে। আর তাঁর ভাগ্নে কিরণ খাঁ রানিগঞ্জের বাসিন্দা। তাঁর বিরুদ্ধে বালিপাচারে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে তল্লাশি অভিযানে নেমে বিপুল পরিমাণ বেহিসেবি নগদ অর্থ এবং কয়লা ও বালিপাচার সংক্রান্ত নথি উদ্ধার করা হয়। সেই সূত্র ধরেই মামা ভাগ্নেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠানো হয় । তদন্তে উঠে এসেছে, গ্রেফতার হওয়া চিন্ময় মণ্ডল ও কিরণ খাঁ এই সিন্ডিকেটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ও অপারেশনাল অংশ সামলাতেন। এমনকী প্রভাবশালীদের কাছে প্রটেকশন মানি পৌঁছে দেওয়ার কাজ ধৃত দুজন করত বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।
আর এরপরেই সমাজমাধ্যমে তৃণমূলের অন্যতম রাজ্য সাধারণ সম্পাদক তথা দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ লিখছেন, 'কয়লা মামলায় যে দুজন সম্প্রতি ইডির হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন, তাঁদের বয়ানে বিজেপির এক শীর্ষনেতার নাম এসেছে। মাসে বিপুল টাকা যেত তাঁর কাছে। ইডি তাঁর বয়ান রেকর্ডের জন্য নোটিস জারির পথে। খবর পেয়ে তিনি গতকাল দিল্লিও গিয়েছিলেন সামাল দিতে। এখনও ইডি অফিসে কোনও রক্ষাকবচের বার্তা আসেনি। প্রশ্ন হল, বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে ইডি ব্যবস্থা নেবে? নাকি যে কোনও মুহূর্তে দিল্লি থেকেই রাজনৈতিক রক্ষাকবচ এসে যাবে? সে ব্যাপারে এখন ইডি র সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছে রাজনৈতিক মহল।
