shono
Advertisement
Taratala disaster

'আমার দু'জন মারা গেল, এই কাজ আর না', মৃত্যুমুখ থেকে ফিরে কী অভিজ্ঞতা শোনালেন তারাতলার ঠিকাদার?

মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরলেও এখনও আতঙ্ক ঘিরে আছে দেবাশিসকে। বুধবার দুপুরের কথা বলতে গিয়েও যেন হাত-পা কেঁপে উঠছিল তাঁর।
Published By: Arpita MondalPosted: 08:33 PM Jun 27, 2026Updated: 08:34 PM Jun 27, 2026

বুধবার দুপুরে তারাতলায় ভয়ঙ্কর বিপর্যয়। ভাঙা গোডাউনের ধ্বংসস্তূপে চার ঘণ্টা আটকে ছিলেন তিনি। দীর্ঘ চেষ্টার পর বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছিল। প্রাণে বেঁচে আছেন। তবে ভয়াবহ বিপর্যয়ের আতঙ্ক যেন তাড়া করে বেড়াচ্ছে তারাতলার নির্মীয়মাণ গোডাউনের ঢালাই ঠিকাদার দেবাশিস দাসকে। বলছেন, 'আমি তো বেঁচে গেলাম, কিন্তু আমার আনা দু'টো ছেলের প্রাণ চলে গেল। ওদের তো আর ফেরাতে পারব না।'

Advertisement

শনিবারই এসএসকেএম হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন দেবাশিস। স্ত্রীর হাত ধরে হাসপাতাল থেকে বেরিয়েই দেবাশিস জানান, "এই কাজে আর আসব না।" চোখ বুজলেই বুধবার দুপুরে ভয়ঙ্কর স্মৃতি ভেসে উঠছে। তাঁর কথায়, "দুটো ছেলের প্রাণ চলে গেল। ওঁদের আমি এনেছিলাম। তাঁদের তো আর পরিবারের কাছে ফেরাতে পারব না।" দেবাশিসের দাবি একটাই, যাঁদের প্রাণ গিয়েছে, তাঁদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো দরকার। দেবাশিস বলেন, "আমরা তো তাও জীবন ফিরে পেলাম। কিন্তু যাঁরা ফিরলেন না, তাঁদের অর্থসাহায্য করা হোক, এটাই চাই।" হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে দেবাশিস জানিয়েছেন, রাজ্য সরকারের তরফে তাঁরা অনেক সাহায্য পেয়েছেন। ঠিকাদার দেবাশিসের দাবি, ঢালাইয়ের কাজের জন্য দিনে ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা পাওয়া যায়। কিন্তু তারাতলার গোডাউনে চার দিনের কাজ ছিল। দৈনিক হাজার টাকা মজুরিতে চুক্তি হয়েছিল। দেবাশিস বলেন, "এনেছিলেন ধর্মেন্দ্র সাহানি। তিনি লেবারদের কন্ট্রাকটর। ঘটনার পর থেকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগই করতে পারিনি।"

মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরলেও এখনও আতঙ্ক ঘিরে আছে দেবাশিসকে। বুধবার দুপুরের কথা বলতে গিয়েও যেন হাত-পা কেঁপে উঠছিল তাঁর। দেবাশিস জানান, "সকাল ১০টা নাগাদ কাজ শুরু হয়েছিল। লেভেল করে পাটা দিচ্ছিলাম। মেশিন চলছিল বলে ভাইব্রেশন হচ্ছিল। হঠাৎ উপর থেকে নির্মাণের চাঙড় ভেঙে পড়ল হুড়মুড়িয়ে। মুহুর্তের মধ্যে সব অন্ধকার। জ্ঞান ফিরতেই দেখতে পেলাম ধ্বংসস্তূপে আটকে আছি। পকেট থেকে মোবাইল বের করে বাড়িতে ফোন করার চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু নেটওয়ার্ক না থাকায় অনেক চেষ্টা করেও ফোন করতে পারিনি।"

দেবাশিস জানান, এসএসকেএমে পৌঁছেই স্ত্রীকে প্রথম ফোন করেন তিনি। দেবাশিসের স্ত্রী বলেন, "কারও থেকে শুনিনি কিছু। ফোন পেয়ে আকাশ থেকে পড়লাম।" তারপর টিভিতে গোটা ঘটনার কথা জানতে পেরেই হাসপাতালে দৌড়ান। শনিবার স্বামীকে হাত শক্ত করে ধরে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেওয়ার পথে স্ত্রী বললেন, "এই কাজ আর করতে দেব না।"

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement