অর্ণব আইচ: হোটেলের ভিতর মধুচক্র তথা অনৈতিক কার্যকলাপ রুখতে তৎপর কলকাতা পুলিশ। পর্যটনের নাম করে যাতে এই ধরনের কাজ না হয়, তার জন্যও পুলিশের পক্ষে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। একটি নামী হোটেল চেইন তথা হোটেল বুকিং প্ল্যাটফর্ম সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে কলকাতার বিভিন্ন অঞ্চলের হোটেলে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ডিসি (সাউথ) প্রিয়ব্রত রায় দক্ষিণ কলকাতায় এই উদ্যোগ নিয়েছেন। ক্রমে শহরের অন্যান্য অঞ্চলেও পুলিশ এই ধরনের তল্লাশি চালাবে।
পুলিশ জানিয়েছে, অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে যে, স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে হোটেলের রুম ভাড়া নিয়ে হোটেলের ভিতর চলেছে অনৈতিক কার্যকলাপ। আবার একাধিক ঘর ভাড়া নিয়ে বসেছে মধুচক্রের আসর। কখনও বা নাবালিকাদেরও চাকরির লোভ দেখিয়ে জোর করে যৌনকর্মে নামাতে বাধ্য করা হয়েছে। এই ধরনের কার্যকলাপ বন্ধ করতে সম্প্রতি কলকাতা পুলিশের সাউথ ডিভিশন ও ওই হোটেল চেন যৌথভাবে একটি সেমিনারের আয়োজন করে। ডিসি (সাউথ) প্রিয়ব্রত রায় জানান, পর্যটনের উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে আইন ও শৃঙ্খলা ঘটিত সমস্যাও বৃদ্ধি পায়। সেই কারণেই প্রত্যেকটি হোটেল কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হচ্ছে যে, অতিথিদের ছবি-সহ পরিচয়পত্র পরীক্ষা করেই যেন হোটেলের রুম ভাড়া দেওয়া হয়। সেই পরিচয়পত্র সম্পর্কে কোনও সন্দেহ থাকলে যেন পুলিশকে জানানো হয়।
[আরও পড়ুন: ‘তুমি বড্ড বেশি কথা বলছ’, দল নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খোলায় হুমায়ুন কবীরকে ধমক মমতার]
হোটেলের ভিতর ও তার চারপাশে যেন পর্যাপ্ত সংখ্যক সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়। সেই সিসিটিভির ফুটেজ যেন রেকর্ড করে রাখা হয়, যাতে প্রয়োজনে সেই ফুটেজ ব্যবহার করা যায়। যাঁরা রুম ভাড়া নেবেন, তাঁদের প্রত্যেকের ছবি যাতে ফুটেজে ধরে রাখা যায়, সেই ব্যবস্থা করতে হবে। হোটেল কর্তৃপক্ষকে সঙ্গে রাখতে হবে সংশ্লিষ্ট থানা ও কলকাতা পুলিশের পদস্থ অফিসারদের নম্বর, যাতে প্রয়োজন হলেই তাঁদের সাহায্য চাওয়া যায়। অভিযান চালানোর সময় এই বিষয়গুলির উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
একদিকে সুপ্রিম কোর্ট প্রাপ্তবয়স্কদের লিভ ইন রিলেশনশিপকে বৈধ বলে ঘোষণা করেছেন। অন্যদিকে, দুই প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ যদি নির্ভৃতে, নির্জনে একটু একান্ত সময় কাটাতে চায়, তাতে বাধা দিচ্ছে পুলিশ। মধুচক্র আটকাতেই নাকি এ ধরনের অভিযান চালাবে পুলিশ। দুই ব্যক্তি যে হোটেল রুমে অনৈতিক কার্যকলাপে লিপ্ত, তা প্রমাণ করাটা হয়তো কঠিন। কারণ, টাকা-পয়সার লেনদেন হয়তো অগ্রিমও হতে পারে। সেক্ষেত্রে কী ধরনের ব্যবস্থা নেবে পুলিশ, তা নিয়ে তর্ক উঠতেই পারে। তবে শহরে মধুচক্রে আটকাতে পুলিশের এই অভিযান যে এক সাধু পদক্ষেপ, তা স্পষ্ট।
