সিপিএমের তরুণ কমরেড প্রতীক উর রহমানের দলের সদস্যপদ ছাড়া, তা নিয়ে আলোচনার মাঝে নয়া মোড়। দলের যাবতীয় পদ ও সিপিএমের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে সরে যাওয়া নিয়ে যে চিঠি, তা নাকি তাঁর নয়! এমনকী পদ ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তও তাঁর নয়! 'সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল'কে একান্ত সাক্ষাৎকারে এমনই দাবি করলেন ডায়মন্ড হারবারের তরুণ সিপিএম নেতা তথা এসএফআই-এর প্রাক্তন রাজ্য সম্পাদক প্রতীক উর রহমান। যে কোনও প্রশ্নের জবাবেই বললেন, ''যা বলার দলের অভ্যন্তরে বলব। যদি জনসমক্ষে কিছু বলার থাকত, তাহলে তা সকলের সামনেই বলতাম, সোশাল মিডিয়ায় বলতাম।'' তবে কি দলের বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ করা প্রতীক উরের যে চিঠি প্রকাশ্যে এসেছে, তা কি তাঁর লেখা নয়? তাঁর সাম্প্রতিকতম বয়ান ঘিরে ফের প্রশ্নের ঝড়।
দলের রাজ্য সম্পাদককে লেখা প্রতীক উর রহমানের চিঠি।
ডায়মন্ড হারবারের তরুণ সিপিএম নেতা তথা এসএফআই-এর প্রাক্তন রাজ্য সম্পাদক প্রতীক উর রহমানের একটাই কথা, ''যা বলার দলের অভ্যন্তরে বলব। যদি জনসমক্ষে কিছু বলার থাকত, তাহলে তা সকলের সামনেই বলতাম, সোশাল মিডিয়ায় বলতাম।''
একাধিক বিষয় নিয়ে প্রতীক উর রহমানের সঙ্গে দলের অন্যান্য যুব নেতাদের মতানৈক্য হচ্ছিল, তা কখনও প্রকাশ্যে এসেছে। সোমবার অসন্তোষ নিয়ে দলের রাজ্য সম্পাদককে তাঁর লেখা চিঠি প্রথম প্রকাশ্যে আনেন তৃণমূলের অন্যতম রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। এরপরই 'সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল' প্রতীক উরের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে। তিনি সমস্ত প্রশ্নের জবাবেই জানান, ‘‘আমার কিছু বলার থাকলে প্রকাশ্যে বা সোশাল মিডিয়া বা আপনাদের (সাংবাদিক) মাধ্যমে বলতাম। কিন্তু তা বলিনি। আমার যা বলার, তা দলের অন্দরে বলেছি। এখনও বিষয়টা নিয়ে দলের ভিতরেই যা বলার বলব।'' শোনা যাচ্ছে, বড় সুযোগ সামনে, তৃণমূলে যোগ দিচ্ছেন? প্রতীক উরের জবাব, ‘‘সিপিএমটা আমি করব না, সেটা কে ঠিক করল? যাঁরা বলছে এসব কথা, তাঁদের সঙ্গে নিশ্চয় তৃণমূলের যোগাযোগ আছে। ওঁদেরই জিজ্ঞাসা করুন না আমাকে তৃণমূল কোথা থেকে প্রার্থী করতে চায়।''
শোনা যাচ্ছে, বড় সুযোগ সামনে, তৃণমূলে যোগ দিচ্ছেন? প্রতীক উরের জবাব, ‘‘সিপিএমটা আমি করব না, সেটা কে ঠিক করল? যাঁরা বলছে এসব কথা, তাঁদের সঙ্গে নিশ্চয় তৃণমূলের যোগাযোগ আছে। ওঁদেরই জিজ্ঞাসা করুন না আমাকে তৃণমূল কোথা থেকে প্রার্থী করতে চায়।''
তবে কি দলের পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত তাঁর নিজের নয়? চিঠিও কি তিনি লেখেননি? এই প্রশ্নের জবাবে প্রতীক উরের মন্তব্য, ‘‘আমার তো প্রশ্ন যে আমার কোনও সিদ্ধান্ত বা কোনও চিঠি তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষের কাছে কী করে গেল? আমার কাছে তো স্ক্রিনশট আছে। রাজ্য কমিটির কোনও এক নেতা নাকি এটা প্রকাশ করে দিয়েছেন।'' দলকে লেখা চিঠি কীভাবে বাইরে ফাঁস হল, এই প্রশ্ন কি দলের অভ্যন্তরেও করবেন? অকুতোভয় প্রতীক উর জানালেন, ‘‘অবশ্যই করব। আমি প্রমাণ হিসেবে এই স্ক্রিনশট দেখাব। যে সাংবাদিকরা আমাকে এই খবর জানিয়েছেন, তাঁদের কারও নাম না করেই বলব।''
সবমিলিয়ে ডায়মন্ড হারবারের তরুণ কমরেডের দলের প্রতি 'বিদ্রোহ' আদৌ সত্য কি না, সেই বিষয়টিই তিনি গুলিয়ে দিলেন। তবে দলীয় সূত্রে নিশ্চিত খবর, ওই চিঠি সিপিএম রাজ্য সম্পাদককে লিখেছেন প্রতীক উর নিজেই। শুধু সংবাদমাধ্যমে এনিয়ে 'লুকোচুরি' খেললেন।
