সিপিএম পার্টিতে যৌন হেনস্তার ঘটনা যেন পিছু ছাড়তে চাইছে না। এবার এসএফআইয়ের এক নেতার বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ এক ছাত্রী কমরেডের। অভিযুক্ত ও অভিযোগকারিণী, দু'জনেই এসএফআইয়ের কলকাতা জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য। বেলেঘাটা এলাকার ওই ছাত্র নেতার বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ যখন উঠেছে তখন
বুধবার থেকেই এসএফআইয়ের কলকাতা জেলার সম্মেলন শুরু হচ্ছে। সম্মেলনের আগে যাতে অস্বস্তি না বাড়ে তাই ওই ছাত্রী কমরেডের অভিযোগ ধামাচাপা দিয়ে রাখারই প্রাণপণ চেষ্টায় সিপিএম। অভিযুক্ত ওই এসএফআই নেতার পার্টিতেও পরিচিতি রয়েছে এবং সে এসএফআইয়ের রাজ্য কমিটিরও সদস্য বলে খবর। তাঁর বিরুদ্ধে লিখিতভাবেই ওই ছাত্রী কমরেড অভিযোগ জানালেও সংগঠনের তরফে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
সংগঠনের অন্দরে লিখিতভাবে ওই ছাত্রী কমরেড অভিযোগ করেছেন, ছাত্র নেতা তাঁর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সম্পর্কে ছিলেন। বিয়েরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। দু'জনের মধ্যে শারীরিক সম্পর্কও তৈরি হয়। পরে ওই নেতার আরও মহিলার সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে বলে জানতে পারেন অভিযোগকারিণী। সম্পর্ক থেকে দূরে সরে যেতে ওই নেতা ছাত্রী কমরেডকে 'ইন্টেলেকচুয়ালি নিম্নমানে'র বলেও অপমান করেন।
এরপরই ওই ছাত্রী মানসিকভাবেও কিছুটা বিপর্যন্ত হয়ে পড়েন বলে এসএফআইয়ের একাংশের দাবি। তাদের আরও দাবি, অভিযোগকারিণীকে বলা হয়েছে বিষয়টি আর না বাড়ানোর জন্য। কারণ, বেলেঘাটা এলাকার ছাত্র লোকাল কমিটির সদ্য দায়িত্ব ছেড়ে আসা ওই ছাত্র নেতা নাকি কলকাতা জেলা এসএফআইয়ের সভাপতি বা সম্পাদক হওয়ার দৌড়েও রয়েছেন বলে খবর। ফলে প্রবল অস্বস্তির মধ্যে পড়েছেন এসএফআইয়ের শীর্ষ নেতৃত্ব।
উল্লেখ্য, এর আগেও দমদম-লেকটাউন এলাকার এক এসএফআই নেতার বিরুদ্ধে মদ্যপানের প্রস্তাব, ফাঁকা ফ্ল্যাটে ডাকা, যৌন সম্পর্কের জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগ করেছিলেন এক মহিলা নেত্রী। প্রাক্তন মন্ত্রী সুশান্ত ঘোষকে পদ থেকে সরতে হয়েছিল এক মহিলার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন ঘিরে। ভাইরাল হয় সেই ভিডিও। সম্প্রতি এক মহিলা কমরেডের অভিযোগে প্রাক্তন সাংসদ বংশগোপাল চৌধুরিকে বহিষ্কার করেছে সিপিএম। কয়েকদিন আগে রাজ্য কমিটির সদস্য যুবনেতা ইন্দ্রজিৎ ঘোষকেও একই অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
