দু'দিনের বঙ্গসফর সেরে দিল্লি ফিরে গেল মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বাধীন কমিশনের ফুলবেঞ্চ। রাজ্যে বিধানসভা ভোট কবে? সেই বিষয়ে পরিষ্কার কোনও তথ্য দেয়নি কমিশন। তবে এদিনই রাজ্যের নির্বাচন অবজার্ভার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হল সুব্রত গুপ্তকে। এর আগে এসআইআর পর্ব শুরুর মুখে নির্বাচন কমিশন তাঁকে বড় দায়িত্ব দিয়েছিল। স্পেশাল রোল অবজার্ভার হিসেবে তিনি দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন।
জাতীয় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার একাধিক বিষয়ে গত দু'দিন ধরে বৈঠক করেছেন। নির্বাচনের আগেই আধিকারিকদের একাধিক দায়িত্ব, নির্দেশ দিয়েছিলেন। আজ, মঙ্গলবার দুপুরে সাংবাদিক বৈঠকও করেছিলেন জ্ঞানেশ কুমার। সেখানেই সুব্রত গুপ্তকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়ার ব্যাপারে ইঙ্গিত মিলেছিল। সেই বৈঠকের কিছু সময় পরেই দেখা যায় সুব্রত গুপ্ত বড় দায়িত্ব পেলেন। তাঁকেই রাজ্যের নির্বাচনী পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হল। তিনি নিজে অবসরপ্রাপ্ত আইএএস।
সুব্রত গুপ্ত অতীতে পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের আইএএস অফিসার ছিলেন। সরকারি আমলা হিসেব তিনি দীর্ঘদিন কাজের পর অবসর নিয়েছেন। এবার এসআইআর শুরুর সময়ে নির্বাচন কমিশন তাঁকে বড় দায়িত্ব দেওয়া হয়। এসআইআরের কাজের ক্ষেত্রে তিনি রোল অবজার্ভার পদে ছিলেন। এসআইআরে কাজকর্ম প্রতিটি ধাপে যাতে যথাযথ হয়, সেই বিষয়টি নিশ্চিত করা তাঁর দায়িত্ব ছিল। এসআইআরের রিপোর্ট নির্বাচন কমিশনকে পাঠানোর দায়িত্বে ছিলেন তিনি।
এসআইআর পরবর্তী বাংলায় ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচন হিংসামুক্ত করাই লক্ষ্য নির্বাচন কমিশনের। মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে সেকথা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। এই প্রেক্ষাপটে ২০২১ সালের ভোট পরবর্তী হিংসার জায়গায় কোন কোন ওসি এবং তাঁর ঊর্ধ্বতন অফিসাররা ছিলেন সেই তালিকা চাইল নির্বাচন কমিশন।
গত রবিবার বাংলায় আসে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-সহ নির্বাচন কমিশনের ফুলবেঞ্চ। সোমবার থেকে দফায় দফায় বৈঠক করেন আধিকারিকরা। প্রথম দফায় রাজ্যের ২৩ জেলার জেলাশাসক, জেলা ও পুলিশ জেলার সুপার এবং রাজ্য ও কেন্দ্রের ২৪টি সংস্থার আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক হয়। শাসক-বিরোধী-সহ রাজ্যের রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে বৈঠকও হয়েছে।
এমনকী আজ মঙ্গলবারও রাজ্য প্রশাসনের একাধিক কর্তার সঙ্গে কমিশনের বৈঠক হয়। বৈঠক হয় বিএলওদের সঙ্গেও। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। কমিশনের মতে, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তুলনামূলক সন্তোষজনক। এই পরিস্থিতিতে জ্ঞানেশের বার্তা, “পশ্চিমবঙ্গে অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ ভোট হবে। কোনও উসকানি বরদাস্ত নয়।”
