shono
Advertisement
CPM

পুরভোটে স্ট্র্যাটেজি বদল সিপিএমের! জোট নিয়ে নিচুতলার কর্মীদের 'স্বাধীনতা' দিল আলিমুদ্দিন

দ্রুত প্রার্থী বাছাই ও সংগঠনকে নির্বাচনী লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত হওয়ার নির্দেশ পার্টির, সবটাই হবে জেলাস্তরে।
Published By: Sucheta SenguptaPosted: 09:37 PM Sep 03, 2026Updated: 09:37 PM Sep 03, 2026

পুরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে জোট ও আসন সমঝোতার প্রশ্নে নিচ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পথেই হাঁটতে চাইছে সিপিএম। উপর থেকে কোনও সিদ্ধান্ত চাপিয়ে না দিয়ে সংশ্লিষ্ট জেলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সাংগঠনিক শক্তি এবং সম্ভাব্য প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তার ভিত্তিতেই আসন সমঝোতার সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য জেলা নেতৃত্বকে কার্যত 'স্বাধীনতা' দেওয়া হল। তবে বামফ্রন্টের বাইরে কোনও গণতান্ত্রিক দল আলোচনায় আসতে চাইলে সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস এবং এনসিপিআই-এর সঙ্গে কোনওরকম নির্বাচনী সমঝোতার দরজা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত স্পষ্ট করেছে সিপিএম রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলী।

Advertisement

পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির এক সদস্যর ব্যাখ্যা, প্রতিটি পুরসভায় রাজনৈতিক বাস্তবতা এক নয়। কোথাও বামফ্রন্টের নিজস্ব শক্তি বেশি, কোথাও আবার বামফ্রন্টের বাইরে থাকা গণতান্ত্রিক কোনও শক্তির সঙ্গে সমঝোতা করলে বিজেপি বা তৃণমূল-বিরোধী ভোটকে এক জায়গায় আনা সম্ভব হতে পারে। ফলে রাজ্যস্তরে সিদ্ধান্ত না নিয়ে স্থানীয় বাস্তবতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়াই কৌশল।

নভেম্বরের শেষ অথবা ডিসেম্বরের গোড়ায় রাজ্যের যে পুরসভাগুলিতে নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, সেখানে দ্রুত প্রার্থী বাছাই ও সংগঠনকে নির্বাচনী লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত করার নির্দেশ দিল সিপিএম। পাশাপাশি বামফ্রন্টের শরিক দলগুলির সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা শুরু করার কথাও বলা হয়েছে। তবে এবারের কৌশলের অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ দিক হল, আসন সমঝোতার ক্ষেত্রে জেলা নেতৃত্বের মতামতকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া।

রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভা নির্বাচনের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক সমীকরণে পুরভোটকে শুধুমাত্র আসন জেতার লড়াই হিসেবে দেখছে না সিপিএম। সংগঠনের পুনর্গঠন, জনভিত্তি পুনরুদ্ধার এবং বিজেপি ও তৃণমূল-বিরোধী ভোটের মধ্যে নিজেদের রাজনৈতিক পরিসর বাড়ানো - এই তিনটি লক্ষ্যকে সামনে রেখেই পুরভোটের প্রস্তুতি শুরু করতে চাইছে আলিমুদ্দিন স্ট্রিট।

পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির এক সদস্যর ব্যাখ্যা, প্রতিটি পুরসভায় রাজনৈতিক বাস্তবতা এক নয়। কোথাও বামফ্রন্টের নিজস্ব শক্তি বেশি, কোথাও আবার বামফ্রন্টের বাইরে থাকা গণতান্ত্রিক কোনও শক্তির সঙ্গে সমঝোতা করলে বিজেপি বা তৃণমূল-বিরোধী ভোটকে এক জায়গায় আনা সম্ভব হতে পারে। ফলে রাজ্যস্তরে সিদ্ধান্ত না নিয়ে স্থানীয় বাস্তবতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়াই কৌশল। এদিকে ভোটার তালিকা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে সিপিএমের। ট্রাইব্যুনালে থাকা নামগুলি যাতে দ্রুত ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তার জন্য নির্বাচন কমিশনের উপর চাপ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় কোনও যোগ্য নাগরিকের নাম বাদ পড়লে তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিকভাবে সরব হওয়ার জন্যও জেলা নেতৃত্বকে রাস্তায় নামতে নির্দেশ দিয়েছে সিপিএম। শুধু নির্বাচনী প্রস্তুতিতেই নয়, জনসংযোগ ও আন্দোলনকেও পুরভোটের প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার করতে চাইছে লাল পার্টি।

রাজ্যস্তরে বিভিন্ন ইস্যুতে আন্দোলনের পাশাপাশি জেলায় জেলায় স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন সমস্যাকে সামনে রেখে কর্মসূচি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুর পরিষেবা, নাগরিক পরিকাঠামো, মূল্যবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান-সহ স্থানীয় ইস্যুতে মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া পাঠান হয়েছে আলিমুদ্দিনের তরফে বলে সূত্রের খবর। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভা নির্বাচনের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক সমীকরণে পুরভোটকে শুধুমাত্র আসন জেতার লড়াই হিসেবে দেখছে না সিপিএম। সংগঠনের পুনর্গঠন, জনভিত্তি পুনরুদ্ধার এবং বিজেপি ও তৃণমূল-বিরোধী ভোটের মধ্যে নিজেদের রাজনৈতিক পরিসর বাড়ানো - এই তিনটি লক্ষ্যকে সামনে রেখেই পুরভোটের প্রস্তুতি শুরু করতে চাইছে আলিমুদ্দিন স্ট্রিট। আর সেই কারণেই ‘উপর থেকে জোট’ নয়, জেলা-ভিত্তিক রাজনৈতিক বাস্তবতাকেই এবারের কৌশলের কেন্দ্রে রাখা হচ্ছে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement