পশ্চিমবঙ্গ জেনারেল সার্ভিসের ক্যাডার। অথচ দীর্ঘদিন ধরে তিনি পশ্চিমবঙ্গ মেডিক্যাল এডুকেশন সার্ভিসের চিকিৎসক হিসাবে চাকরি করছিলেন। অনৈতিকভাবে নিচ্ছিলেন মোটা বেতনও। অভিযোগের আঙুল যাঁর দিকে, তিনি চিকিৎসক রিয়াল দাস। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ চিকিৎসক ডা. এস পি দাসের কন্যা। এনিয়ে ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের প্রতিক্রিয়া, ‘‘পদে থাকতে গেলে একজনের ন্যূনতম যোগ্যতা থাকতে হবে। ওঁর তো সেটা ছিল না, এমডি ডিগ্রিই ছিল না। ওঁর যোগ্যতা বলতে, বাবা এস পি দাস এমডি এবং তিনি গোটা লবিটা চালাতেন। সেই জোরে মেয়েও বড় পদ বসেছিল অনৈতিকভাবে। এতদিন তো এটাই হচ্ছিল। আমরা ওঁকে (রিয়াল দাস) অপসারিত করেছি। আনরিয়াল পদে ছিলেন, রিয়াল পোস্টিং দিয়েছি। যদি বেশি বেতন নিয়ে থাকেন, তাহলে সেটা ফেরত দিতে হবে।''
শুধুমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিকিৎসা করেন, এই পরিচিতি ভাঙিয়ে তিনি রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার 'অলিখিত অভিভাবক' হয়ে উঠেছিলেন। অভিযোগ, সেই সুবাদেই তাঁর কন্যা ডা. রিয়াল দাস যোগ দিয়েছিলেন এসএসকেএম-এর ইনস্টিটিউট অব সাইকিয়াট্রির (সেন্টার অব এক্সেলেন্স) সাইকিয়াট্রিক এপিডেমিওলজি বিভাগে সহকারী অধ্যাপক পদে। অভিযোগ, কার্যত গায়ের জোরেই এসএসকেএম-এর ইনস্টিটিউট অফ সাইকিয়াট্রিতে নতুন পদ বানানো হয়েছিল ডা. রিয়াল দাসের জন্য। পাচ্ছিলেন অতিরিক্ত বেতনও।
২০২৪ সালে আর জি কর মেডিক্যাল কলেজে তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণের পরেই উঠে আসে 'উত্তরবঙ্গ লবি'-র কথা। এই লবিই নাকি নিয়ন্ত্রণ করত বাংলার সরকারি চিকিৎসা ক্ষেত্রকে। ডা. এস পি দাস ওরফে শ্যামাপদ দাস সেই গোষ্ঠীর 'জনক' বলেই পরিচিত। অভিযোগ, এই লবির 'দাসত্ব' মেনে না নিলে বদলির খাঁড়া নেমে আসাই অলিখিত নিয়ম হয়ে গিয়েছিল রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায়। পদোন্নতি থেকে পরীক্ষায় পাস করা - সবই নাকি চলত এই গোষ্ঠীর অঙ্গুলিহেলনে। সেখানে বিভিন্ন স্তরের নেতা থাকলেও, 'এস পি দাসই ছিলেন আসল মাথা'। শুধুমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিকিৎসা করেন, এই পরিচিতি ভাঙিয়ে তিনি রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার 'অলিখিত অভিভাবক' হয়ে উঠেছিলেন। অভিযোগ, সেই সুবাদেই তাঁর কন্যা ডা. রিয়াল দাস যোগ দিয়েছিলেন এসএসকেএম-এর ইনস্টিটিউট অব সাইকিয়াট্রির (সেন্টার অব এক্সেলেন্স) সাইকিয়াট্রিক এপিডেমিওলজি বিভাগে সহকারী অধ্যাপক পদে। অভিযোগ, কার্যত গায়ের জোরেই এসএসকেএম-এর ইনস্টিটিউট অফ সাইকিয়াট্রিতে নতুন পদ বানানো হয়েছিল ডা. রিয়াল দাসের জন্য। পাচ্ছিলেন অতিরিক্ত বেতনও।
বুধবার রাজ্য সরকারের তরফে নয়া সার্কুলার জারি করে জানানো হয়েছে, ডা. রিয়াল দাসকে পশ্চিমবঙ্গ মেডিক্যাল এডুকেশন সার্ভিস থেকে পশ্চিমবঙ্গ জেনারেল সার্ভিস ক্যাডারে ফেরত পাঠানো হল। এই নোটিস জারি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য পরিষেবা অধিদপ্তরের অধীনে কাজে যোগ দিতে হবে। রাজ্য সরকারের সার্কুলারে আরও জানানো হয়েছে, ডা. রিয়াল দাস পশ্চিমবঙ্গ জেনারেল সার্ভিস ক্যাডারের একজন মেডিক্যাল অফিসার হিসেবে প্রাপ্য বেতন পাবেন। এতদিন মেডিক্যাল এডুকেশন সার্ভিসে সহকারী অধ্যাপক হিসাবে কাজ করার ফলে তিনি অতিরিক্ত বেতন পেয়ে এসেছেন। সেই অতিরিক্ত অর্থ তাঁর কাছ থেকে আদায় করবে রাজ্য।
