সরকারি স্কুলগুলিতে পোশাক বদল করতে পারে রাজ্য সরকার! ২০২২ সালের আগে স্কুলের পোশাক কেমন ছিল তার সমীক্ষার নির্দেশ স্কুল শিক্ষাদপ্তরের। জেলাভিত্তিক সমীক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা স্কুল পরিদর্শকরা সেই সমীক্ষা চালিয়ে রিপোর্ট জমা দেবে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ডিআইদের ইউনিফর্ম সংক্রান্ত তথ্য জমা দিতে বলা হয়েছে। জানা যাচ্ছে, যে নতুন পোশাক দেওয়া হবে তার খরচ বহন করবে রাজ্য সরকারই।
নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ২০২২ শিক্ষাবর্ষের আগে স্কুলগুলিতে যে রং অর্থাৎ পোশাক ব্যবহার করা হত, তার উপর ভিত্তি করেই ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য এই জেলাভিত্তিক সমীক্ষা চালানো হবে। জানা যাচ্ছে, নীল-সাদা পোশাকের একরঙা নীতি বাতিল করে স্কুলগুলির আগের নিজস্ব ইউনিফর্ম ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জরুরি ভিত্তিতেই এই কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন পুর ও নগরোন্নয়ন উন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি বলেন, "প্রতিটি স্কুলের নিজস্ব পোশাক শুধু তাদের ঐতিহ্য নয়, বরং ছাত্র-ছাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত জরুরি। নির্দিষ্ট পোশাক দেখে জানা যেত পড়ুয়া কোন স্কুলের পড়ুয়া। বিগত দিনে নীল-সাদা পোশাক তৈরি নিয়ে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি করা হয়েছে। নিম্নমানের কাপড় সরবরাহ করা হয়েছিল।" কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী বলেন, "মমতা নীল পছন্দ করত তাই নীল-সাদা করেছিল। এবার গেরুয়া হলে প্রশ্ন উঠবে। নিরপেক্ষ হওয়া উচিত। অনেক স্কুলের নিজস্ব ড্রেস কোড আছে। পোশাক করা হোক, তারপর বলব।"
উল্লেখ্য, ২০১১ সালে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর স্কুলের পোশাক বদলানোর কাজ শুরু করে। ২০২২ সালের পর নীল-সাদা রঙের পোশাক কার্যত চাপিয়ে দেওয়া হয়। ব্যাচের বদলে বুকের কাছে লাগানো হয় বিশ্ব বাংলার লোগো। সেই সময় অনেক স্কুল তার বিরোধিতা করেছিল। এবার সেই রং বদলানোর তোড়জোড় শুরু করেছে সরকার। রানাঘাট ভারতী হাই স্কুলের টিআইসি মৃন্ময় দে বলেন, "আমাদের কাছে একটা গুগল ফর্ম এসেছে। সেখানে স্কুল পোশাকে পছন্দের রঙ জানতে চাওয়া হয়েছে। পুরনো ড্রেস থাকবে কিনা জানি না। এ ছাড়াও স্কুলে কত পড়ুয়া তা জানতে চাওয়া হয়েছে।"
