নির্দিষ্ট অ্যান্টিবায়োটিক দীর্ঘদিন খেলেই মেজাজ খিটখিটে, গ্রাস করতে পারে অস্থিরতা! দানা বাধবে উদ্বেগজনিত সমস্যাও। ডক্সিসাইক্লিন নিয়ে তাই নয়া নির্দেশিকা জারি করল সেন্ট্রাল ড্রাগ স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন। সংস্থার পক্ষ থেকে এই মর্মে প্রতিটি রাজ্যকে একটি নোটিস পাঠানো হয়েছে। যেখানে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ডক্সিসাইক্লিনের স্ট্রিপে লিখে রাখতে হবে সতর্কবার্তা। কিন্তু কি লেখা থাকবে সেখানে? ‘‘ডক্সিসাইক্লিন খেলেই অস্থিরতা, উদ্বেগজনিত মানসিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। মেজাজ হতে পারে খিটখিটে।’’
কেন্দ্রের ফার্মাকোভিজিলেন্স প্রোগ্রামে দীর্ঘ আলোচনার পর বিশেষজ্ঞরা পেয়েছেন তার তথ্য প্রমাণ। যে সমস্ত সংস্থা ডক্সিসাইক্লিন তৈরি করে তাদের প্যাকেটে লিখতে হবে এই সতর্কবার্তা। যদিও এই পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নিয়ে ক্রেতাদের অযথা আতঙ্কিত হতে বারণ করেছেন চিকিৎসকরা।
উল্লেখ্য দীর্ঘ পাঁচদশক ধরে চিকিৎসকদের অত্যন্ত প্রিয় ওষুধ ডক্সিসাইক্লিন। বিশেষ কিছু নিউমোনিয়া, স্ক্রাব টাইফাস-সহ একাধিক ব্যাকটিরিয়া জনিত অসুখ নিরাময়ে এই অ্যান্টিবায়োটিকের ভূমিকা বিপুল। নতুন করে সেই ওষুধে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা যাওয়ায় চিন্তিত চিকিৎসকরা। সূত্রের খবর, ডক্সিসাইক্লিনের এই পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সংক্রান্ত বিষয়টি আলোচিত হয়েছে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ও অ্যান্টিপ্যারাসাইটিক ওষুধ সংক্রান্ত সাবজেক্ট এক্সপার্ট কমিটিতেও।
এসএসকেএম হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. নিলাদ্রী সরকার জানিয়েছেন, লেপটোস্পাইরা ব্যাকটিরিয়া সংক্রমণে এই ওষুধ অব্যর্থ। সেক্ষেত্রে রোগীকে এই অ্যান্টিবায়োটিকই দিতে হবে। এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিচ্ছু নেই। ক্লিনিকাল পর্যবেক্ষণে দেখা গিয়েছে যতজন ডক্সিসাইক্লিন খেয়েছেন তার মধ্যে মাত্র ৩ থেকে ৬ শতাংশের মতো মানুষের মধ্যে উদ্বেগজনিত সমস্যা দেখা দিয়েছে।
অন্যদিকে অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার ঠেকাতে এমন নির্দেশিকা স্বাগত জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা। ইন্সটিটিউট অফ চাইল্ড হেলথের অধ্যক্ষ ডা. জয়দেব রায় জানিয়েছেন, ডক্সিসাইক্লিন একটি অ্যান্টিবায়োটিক। ক্লাইমাডিয়া-র মতো যৌনবাহিত সংক্রমণ কিংবা স্ক্রাব টাইফাসের মতো অসুখে এর ব্যবহার আবশ্যিক। ডা. জয়দেব রায়ের বক্তব্য, ‘‘কখন অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন সে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন শুধুমাত্র একজন চিকিৎসক। প্রেসক্রিপশন ছাড়াই ওষুধের দোকানে গিয়ে মুড়ি মুড়কির মতো অ্যান্টিবায়োটিক কেনার হিড়িক বাড়ছে। আশা করছি সেই প্রবণতায় লাগাম টানবে কেন্দ্রীয় ড্রাগ কন্ট্রোল বোর্ডের নয়া নির্দেশিকা।’’
