shono
Advertisement
ED

'শান্তনু-কামদারের সিন্ডিকেট, সোনা পাপ্পুর নামে হুমকি', ডিসিপির মামলায় আদালতে বিস্ফোরক ইডি

বৃহস্পতিবার দিনভর জেরার পর রাতে ডিসিপি শান্তনু সিনহাকে গ্রেপ্তার করেছে ইডি। আজ তাঁকে পিএমএলএ আদালতে তোলা হয়েছে।
Published By: Sucheta SenguptaPosted: 05:18 PM May 15, 2026Updated: 07:06 PM May 15, 2026

পুলিশ হিসেবে প্রভাব খাটিয়ে, রাজনৈতিক যোগসাজশ খাটিয়ে বিশাল দুর্নীতি। বেআইনিভাবে আয়বৃদ্ধি। ভয় দেখিয়ে কম দামে জমি, বাড়ি বিক্রি করতে বাধ্য করা। একাধিক অভিযোগে শেষপর্যন্ত ইডির হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন কলকাতা পুলিশের ডিসিপি শান্তনু সিনহা। বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেপ্তারির পর শুক্রবার সকালে তাঁকে পিএমএলএ আদালতে পেশ করা হয়। ইডি ১৪ দিনের হেফাজতে চেয়ে আবেদন জানানো হয়। একাধিক যুক্তিতে তাঁকে হেফাজতে চাওয়া হয়েছে। পালটা আবার শান্তনুর আইনজীবীর সওয়াল, ‘‘আমার মক্কেল পালাবেন না। যে কোনও কঠিন শর্তে জামিন দেওয়া হোক।''

Advertisement

এদিন ইডির তরফে আদালতে সওয়াল করেছেন আইনজীবী ধীরাজ ত্রিবেদী। তাঁর যুক্তি, ‘‘আমরা শান্তনু সিনহাকে ১৪ দিনের জন্য হেফাজতে চাইছি। কীভাবে দুর্নীতির টাকা রোজগার হল, সেটা আমরা দেখছি। জয় কামদার প্রোমোটার-পুলিশের মাধ্যমে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে যুক্ত ছিল। জমি দখল, রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো ও প্রয়োজনে ভয় দেখানোর চক্র চলত। মানুষকে ভয় দেখিয়ে নিজেদের ঠিক করা দরে সম্পত্তি বিক্রির কারবার চলত। কম দামে জমি বাড়ি বিক্রি করতে বাধ্য করা হত।''

এরপর কুখ্যাত দুষ্কৃতী সোনা পাপ্পুর নাম করে আইনজীবীর আরও সওয়াল, ‘‘বেআইনি কাজে পুলিশকে বেশি করে ব্যবহার করা হত। তাতেও কাজ না হলে সোনা পাপ্পুর দুষ্কৃতী দলকে নিয়ে ভয় দেখানো হত। সোনা পাপ্পুকে দিয়ে হুমকি সংস্কৃতি চালাত শান্তনুর। ওয়েলফেয়ার কমিটির মাধ্যমে সব পুলিশ অফিসারকে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছিল। পুলিশ অফিসারদের বদলি করার কারবার চালাচ্ছিলেন শান্তনু। এর মাধ্যমে প্রচুর টাকা তোলা হয়েছে। এটা দুর্নীতির টাকা। অবসরের পরও তৎকালীন সরকার দীর্ঘদিন এক্সটেনশন পেয়েছেন। একই থানায় (কালীঘাট) দীর্ঘ বছর পোস্টিং ছিল। শান্তনু নিজের ছেলেকে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিন পদে নিয়োগ করেছিল। হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট থেকে দেখা যাচ্ছে, শান্তনু আর জয় সবসময় নিজেদের মধ্যে কথা বলত কীভাবে আরও টাকা আসবে।
শান্তনুর ছেলের অ্যাকাউন্টে একবারে ২১ লক্ষ টাকা ঢুকেছে। শান্তনুর ছেলেদের নাম সান কনস্ট্রাকশন সংস্থার দুটি ফ্ল্যাট বুক ছিল। সিন্ডিকেটকে টাকা না দিলে কোনও কাজ করা যাবে না। এটাই নিয়ম ছিল। তাই তাঁকে কোনওভাবেই জামিন দেওয়া যাবে না। প্রভাবশালী ব্যক্তি, প্রমাণ নষ্ট করবেন।''

অন্যদিকে, শান্তনু আইনজীবী সাবির আহমেদ ইডিকে খোঁচা দিয়ে পালটা সওয়াল করেন, ‘‘ইডি অনেক গল্প শোনাল আদালতে। কিন্তু আদালতে গল্প না, প্রমাণ চলে। আমার মক্কেলের পারিবারিক সূত্রে জমি ও সম্পত্তি আছে। একটি অনুষ্ঠানের সূত্রে কামদারের থেকে কিছু উপহার এসেছিল। সেটার সঙ্গে দুর্নীতির যোগ নেই। সোনা পাপ্পুকে আমার মক্কেল চেনেন না। ইডি যতবার আমার মক্কেলকে ডেকে পাঠাতে নোটিস দিয়েছে, তিনি ততবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছেন। আমার মক্কেল পালাবেন না। যে কোনও কঠিন শর্তে জামিন দেওয়া হোক।''

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement