সদ্যই লোকসভায় আসন পুনর্বিন্যাস বিল পাশ করানোর চেষ্টা করেছিল কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকার। নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়মের পাশাপাশি ডিলিমিটেশন বিলটিও পেশ করার কথা ছিল। কিন্তু প্রথম বিলটি পাশ না হওয়ায় শেষে আর ডিলিমিটেশন বিল পেশ করেননি অমিত শাহ। পরবর্তীকালে হয়তো আবারও সেই চেষ্টা করবে কেন্দ্র। তবে কেন্দ্রীয় স্তরে যা-ই হোক আগামী দিনে বাংলায় যে বিধানসভার আসন পুনর্বিন্যাস হতে পারে সেটার ইঙ্গিত মিলল খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কথায়।
শুক্রবার বিধানসভায় স্পিকার নির্বাচনের পর মুখ্যমন্ত্রী ইঙ্গিত দেন, আগামী দিনে এই স্পিকারের নেতৃত্বেই হয়তো বিধানসভা ভবনের সংস্কার করতে হবে। এমনকী বিধানসভার নতুন ভবনের কথাও ভাবা হতে পারে। এদিন মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় বলেন, "আগামী দিনে অনেক সংস্কারের প্রয়োজন আছে। রাজ্য সরকারের আধিকারিকরা আজ এই ঐতিহাসিক অধিবেশনের সাক্ষী। ডিলিমিটেশন হয়ে গেলে হয়তো আসন সংখ্যা অনেক বেড়ে যাবে। সেক্ষেত্রে আমাদের নতুন ভবন তৈরি করার দরকার পড়তে পারে।"
শুক্রবার বিধানসভায় স্পিকার নির্বাচনের পর মুখ্যমন্ত্রী ইঙ্গিত দেন, আগামী দিনে এই স্পিকারের নেতৃত্বেই হয়তো বিধানসভা ভবনের সংস্কার করতে হবে। এমনকী বিধানসভার নতুন ভবনের কথাও ভাবা হতে পারে।
ডিলিমিটেশন অর্থাৎ আসন পুনর্বিন্যাস বিজেপির পুরনো এজেন্ডা। যদিও এরাজ্যে গেরুয়া শিবিরের সংকল্প পত্রে এর উল্লেখ ছিল না। বিধানসভা অধিবেশনের শুরুতেই মুখ্যমন্ত্রীর মুখে ডিলিমিটেশনের উল্লেখ, তাই বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। নিয়ম অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় স্তরে লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাসের জন্য সংসদের অনুমতির প্রয়োজন। তবে বিধানসভার ক্ষেত্রে পুনর্বিন্যাস বা আংশিক পুনির্বিন্যাসের নির্দেশ দেওয়ার জন্য লোকসভার অনুমতির প্রয়োজন হয় না। রাষ্ট্রপতির অনুমতি থাকলেই কমিশন গঠন করতে পারে রাজ্য সরকার। সেই কমিশনের রিপোর্ট বিধানসভায় পাশ করাতে হয়। ঘটনাচক্রে রাজ্যে বর্তমান সরকারের হাতে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। ফলে আসন পুনর্বিন্যাস করাতে চাইলে সমস্যা হওয়ার কথা নয় শুভেন্দু অধিকারীর।
অবশ্যম্ভাবীভাবে প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি ২০২৩ সালে হিমন্ত বিশ্বশর্মা যে ধাঁচে অসমে আসন পুনর্বিন্যাস করিয়েছেন, সেই একই ধাঁচে আগামী দিনে বাংলাতেও ডিলিমিটেশন দেখা যাবে। বিরোধীরা বলেন, ২০২৩ সালের আসন পুনর্বিন্যাসের পরে অসমে সংখ্যালঘু ভোটের গুরুত্ব অনেক কমে গিয়েছে। আগে যেখানে অন্তত ৩৫ আসনে সংখ্যালঘুরা নির্ণায়ক ভূমিকা নিতেন, সেখানে ওই ধরনের আসন সংখ্যা এখন মাত্র ২২। চলতি বছর বিধানসভা নির্বাচনে অসমে বিরোধীরা ওই ২২ টি আসনের বাইরে সেভাবে প্রভাবই ফেলতে পারেনি। আগামী দিনে বাংলাতেও কি ওই একই মডেল প্রয়োগ করতে চাইছেন শুভেন্দু?
