কয়েক মাস আগেই শেষ হয়েছে বিধানসভা ভোট। লোকসভা ভোট আরও প্রায় বছর তিনেক পর। এর মধ্যেই কমিশনকে কড়া নিরাপত্তার চাদরে মোড়ার পরিকল্পনা লালবাজারের। তার জন্য চলতি সপ্তাহেই নির্বাচন কমিশনের নিরাপত্তার পর্যালোচনা বা 'সিকিউরিটি অডিট' করছে কলকাতা পুলিশ। এই ক্ষেত্রে পুলিশের সঙ্গে পূর্ত দপ্তর ও অন্যান্য কয়েকটি দপ্তর করবে পর্যালোচনা।
বিধানসভা ভোটের আগেই শিপিং কর্পোরেশনের নতুন বাড়িতে উঠে এসেছে নির্বাচন কমিশনের দপ্তর। এই বাড়িতে থাকাকালীন বিধানসভা ভোট হয়েছে। এই বাড়ির তিনতলায় রয়েছে নির্বাচন কমিশনের সিইও, অতিরিক্ত সিইও-সহ কর্তাদের অফিসও। ভোট সংক্রান্ত বহু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও নথি সংরক্ষণ করা হয় এই দপ্তরে। আবার ভোটের আগে নির্বাচন কমিশনের দপ্তরের সামনে দফায় দফায় আন্দোলন হয়। জোর করে ভিতরে প্রবেশের চেষ্টা করে আন্দোলকারীরা।
পুলিশ ছাড়াও কেন্দ্রীয় বাহিনী ছিল কমিশনের দপ্তরের নিরাপত্তায়। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নির্বাচন কমিশনের নিরাপত্তা আরও জোরদার করার জন্য পরিকল্পনা করেন কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা দপ্তরের কর্তারা। এবার সেই নিরাপত্তা খতিয়ে দেখছে লালবাজার। কীভাবে নির্বাচন কমিশনের নিরাপত্তা আরও আঁটসাঁট করা যায়, তা দেখার ব্যবস্থা করবে গোয়েন্দা দপ্তর।
লালবাজারের সূত্র জানিয়েছে, এখন আধিকারিকদের ঘরের সামনে পুলিশ নিরাপত্তা দেয়। কিন্তু এই নিরাপত্তা বৃদ্ধি করতে দপ্তরের কোন কোন জায়গায় পুলিশকর্মীদের মোতায়েন করতে হবে ও কতজন পুলিশ আধিকারিক এবং সশস্ত্র পুলিশকর্মী থাকবেন, গোয়েন্দাকর্তারা সেই তথ্য খতিয়ে দেখবেন। একই সঙ্গে সিসিটিভির সংখ্যা বৃদ্ধির উপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বাড়িটির একতলার ভিতর ও বাইরের অংশ থেকে শুরু করে নির্বাচন কমিশনের দপ্তরের ভিতরের অংশ সিসিটিভি ক্যামেরায় মুড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যাতে প্রত্যেকটি অংশ পুলিশের নজরে থাকে।
এগুলি ছাড়াও রাজ্য কমিশনের বাইরের অংশে কীভাবে পুলিশি নিরাপত্তা বাড়ানো যায়, তা নিয়েও পর্যালোচনা চলছে। পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতা করবে পূর্ত বিভাগও। কোন কোন অংশ দিয়ে কেবল বা তার নিয়ে যেতে হবে, পূর্ত দপ্তরের আধিকারিকরা তা খতিয়ে দেখবেন। এ ছাড়াও নির্বাচন কমিশনের প্রবেশের ব্যাপারে আরও কড়াকড়ি করা যায় কি না, সেই ব্যাপারে আলোচনা করছেন পুলিশকর্তারা। শিপিং কর্পোরশনের বাড়িটিতে থাকা বিভিন্ন অফিসে বহু মানুষই আসেন। তাঁদের মধ্যে অকারণে কেউ যাতে নির্বাচনের দপ্তরে না যান, সেই ব্যাপারেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
