জনপ্রিয় সমাজমাধ্যম ফেসবুকেও এবার সাইবার প্রতারণার ফাঁদ! পেনশন কার্ড দেওয়ার নামে ফেসবুককে ব্যবহার করে বড়সড় জালিয়াতি। আর সেই ফাঁদে পড়ে সর্বস্ব খোয়ালেন প্রাক্তন এক ব্যাঙ্ক ম্যানেজার। খোয়া গেল পৌনে ১৫ লাখ টাকা। সঞ্চয়ের সব হারিয়ে একেবারে মাথায় হাত প্রাক্তন ওই ব্যাঙ্ক কর্তার। ঘটনার পরেই সার্ভে পার্ক থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। অভিযোগের ভিত্তিতে শুরু হয়েছে ঘটনার তদন্ত। যে লিঙ্ক থেকে এই প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একইসঙ্গে ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টের সূত্র ধরেও চলছে তদন্ত।
সাইবার প্রতারণা ক্রমশ মাথা ব্যথার কারণ হয়ে উঠছে তদন্তকারীদের। বিশেষ করে 'ডিজিটাল অ্যারেস্ট' করে সাধারণ মানুষকে প্রতারণা করা হচ্ছে। কখনও সিবিআই, আবার কখনও ইডি কিংবা অন্যান্য কেন্দ্রীয় সংস্থার নাম করে ফোন করার পর ভয় দেখিয়ে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে কোটি কোটি টাকা। কখনও ভিডিও কল করে আবার কখনও ফোন করা হচ্ছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বয়স্ক, অবসরপ্রাপ্তরাই প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। সাইবার প্রতারণার থেকে বাঁচতে সরকার, পুলিশের তরফে লাগাতার সচেতনতা মূলক প্রচারও করা হচ্ছে। এরপরেও প্রতারণার ফাঁদে পড়ছেন মানুষ। খোয়াতে হচ্ছে সঞ্চয়।
যেমনটা হয়েছে ওই ব্যাঙ্ক কর্তার সঙ্গেও। পুলিশ সূত্রে খবর, ওই প্রাক্তন ব্যাঙ্ককর্তা ফেসবুক করতে গিয়ে দেখেন, একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের পেনশন কার্ড পাওয়া যাচ্ছে। ওই ব্যাঙ্কে তাঁর অ্যাকাউন্টও রয়েছে। ফলে পেনশন কার্ড পাওয়ার জন্য ফেসবুকে দেওয়া লিঙ্কে তিনি ক্লিক করেন। সেই লিঙ্ক ক্লিক করার কিছুক্ষণের মধ্যেই এক ব্যক্তি তাঁকে ফোন করে নিজেকে ব্যাঙ্ককর্মী বলে পরিচয় দেয়। ওই কার্ড পাওয়ার জন্য একটি অ্যাপ ডাউনলোড করতে বলা হয়। তিনি না বুঝেই মিরর অ্যাপ ডাউনলোড করেন। এর পরই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের দু’টি অ্যাকাউন্টে থেকে দফায় দফায় ১৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় সাইবার জালিয়াত। এরপরেই ওই ব্যাঙ্ক কর্তা বুঝতে পারেন তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
ঘটনার পরেই স্থানীয় সার্ভে পার্ক থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ওই ব্যক্তি। অভিযোগের ভিত্তিতে শুরু হয়েছে তদন্ত। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। এমনকী উদ্ধার হয়নি টাকাও।
