ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে ইস্তেহার প্রকাশ নিয়ে পদ্ম শিবিরের পথেই লাল পার্টি! জনমত নিয়ে ইস্তেহার তৈরি করবে সিপিএম। এই কাজের জন্য বৃহস্পতিবার 'বাংলা বাঁচাও ডট কম' নামে একটি ওয়েবসাইট রাজ্য সিপিএমের তরফে চালু করা হয়েছে। সেখানে মানুষের মতামত নেওয়া হচ্ছে। সেই মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে সিপিএমের ইস্তেহার তৈরি হবে। বিজেপি আগেই এই প্রক্রিয়া নিয়েছিল। এবার সেই পথে হাঁটল সিপিএমও। এদিকে জোট জটিলতাও অব্যাহত দলের অন্দরে।
জনমত গ্রহণে এই ওয়েবসাইট চালু করল সিপিএম।
ইতিমধ্যে জোট সম্পর্কের ইতি ঘটেছে। এবার কংগ্রেসকে আক্রমণের পথে নামল সিপিএম। রাজ্যে ১৯৭২ থেকে '৭৭ সালের 'আধা ফ্যাসিস্ট' সন্ত্রাসের কথা মনে করিয়ে দিয়ে কংগ্রেসকে নিশানা করলেন সিপিএম পার্টির সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি। ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে এ রাজ্যে সিপিএমের হাত ধরেনি কংগ্রেস। বামেদের সঙ্গে জোট না করে একাই লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। এই প্রসঙ্গেই শুক্রবার আলিমুদ্দিনে সাংবাদিক সম্মেলনে প্রশ্ন করা হয়েছিল সিপিএমের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবিকে। বেবির বক্তব্য, "আমরা চেয়েছিলাম, কিন্তু কংগ্রেস যদি বিজেপি বিরোধী লড়াইয়ের গুরুত্ব না বোঝে... যেখানে যেখানে সুযোগ হয়েছে আমরা করেছি। বিহারে-রাজস্থানে জোটবদ্ধ লড়াই হয়েছে। কেরলে হচ্ছে না, বাংলায় হল না।"
জনমত নিয়ে ইস্তেহার তৈরি করবে সিপিএম। এই কাজের জন্য বৃহস্পতিবার 'বাংলা বাঁচাও ডট কম' নামে একটি ওয়েবসাইট রাজ্য সিপিএমের তরফে চালু করা হয়েছে। সেখানে মানুষের মতামত নেওয়া হচ্ছে। সেই মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে সিপিএমের ইস্তেহার তৈরি হবে।
এরপরই কংগ্রেসকে নিশানা করে সিপিএম সাধারণ সম্পাদক মনে করান '৭২ থেকে '৭৭ সালের আধা-ফ্যাসিস্ট সন্ত্রাসের কথা। বেবি-র বক্তব্য,"৭২-এর ইতিহাস আছে, জ্যোতি বসুকে রিগিং করে বরানগরে হারানো হয়েছিল। ৫ বছর আমরা বিধানসভা বয়কট করেছিলাম। এরপর '৭৭ সালে ম্যাজিক ফলাফল হয়েছিল ভোটে।" এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে কংগ্রেস সেলিম। সাংবাদিক বৈঠকে এম এ বেবি ও মহম্মদ জমানার ইতিহাস যখন স্মরণ করাচ্ছিলেন বেবি, তখন তাঁর পাশেই ছিলেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। বাম শরিকদের আগ্রহ না থাকলেও কংগ্রেসকে জোটে রাখতে শেষ পর্যন্ত মরিয়া চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছিলেন সেলিমই। প্রসঙ্গত, জোট না হওয়া নিয়ে ক'দিন ধরেই সিপিএমের কটাক্ষের পাল্টা আক্রমণ এসেছে কংগ্রেসের তরফেও।
১৮ ফেব্রুয়ারি সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠক রয়েছে। ১৯ ও ২০ তারিখ বেবির উপস্থিতিতে দু'দিনের রাজ্য কমিটির বৈঠক হবে। তার মধ্যেই বাম দলগুলির সঙ্গে আসন বণ্টন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করে ফেলতে চাইছে সিপিএম। ১৮ তারিখ আবার বামফ্রন্টের বৈঠকও ডাকা হয়েছে।
এদিকে, বামফ্রন্টের মধ্যে আসন বণ্টন প্রক্রিয়া আগামী সপ্তাহের মধ্যেই চূড়ান্ত হয়ে যাবে বলে এদিন দাবি করেছেন সেলিম। বামফ্রন্টের মধ্যে আসন ভাগাভাগি নিয়ে ক্ষুব্ধ ফরওয়ার্ড ব্লক ও আরএসপিও। কংগ্রেস জোটে না আসায় একুশের নির্বাচনের থেকে এবার কিছু আসন বেশি তারা দাবি করলেও তা অবশ্য ছাড়তে নারাজ সিপিএম। ফলে আসন বণ্টন নিয়ে বামফ্রন্টে যেমন জয় রয়েছে আবার আইএসএফের সঙ্গেও আসন নিয়ে দর কষাকষিও চলছে। ১৮ ফেব্রুয়ারি সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠক রয়েছে। ১৯ ও ২০ তারিখ বেবির উপস্থিতিতে দু'দিনের রাজ্য কমিটির বৈঠক হবে। তার মধ্যেই বাম দলগুলির সঙ্গে আসন বণ্টন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করে ফেলতে চাইছে সিপিএম। ১৮ তারিখ আবার বামফ্রন্টের বৈঠকও ডাকা হয়েছে। সেদিনই আসন সমঝোতার প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যাবে বলে দাবি সেলিমের।
