shono
Advertisement

Breaking News

Haridevpur

নাবালিকা মেয়ের বিয়ের খবর গোপন! 'কন্যারত্ন' প্রকল্পের টাকা আদায় করতে গিয়ে শ্রীঘরে বাবা

হরিদেবপুর 'বালিকা বধূ'র স্বামী ও শাশুড়িকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মেয়েকে উদ্ধার করে নিরাপদে রাখার ব্যবস্থা হয়েছে।
Published By: Sucheta SenguptaPosted: 09:52 AM Aug 31, 2026Updated: 09:52 AM Aug 31, 2026

নাবালিকা মেয়ের বিয়ের পরও নীরব বাবা। কিশোরী মেয়ের বিয়ের ব‌্যাপারটাই বেমালুম চেপে গিয়েছিলেন। কিন্তু কন‌্যা টাকা তুলতে গিয়েই বিপাকে পুরো পরিবার। শেষ পর্যন্ত নাবালিকাকে বিয়ে দেওয়া ও নাবালিকার উপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগে হরিদেবপুর থানার পুলিশের হাতে রবিবার গ্রেপ্তার হলেন ওই নাবালিকা কিশোরীর বাপের বাড়ি ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন। কিশোরীর স্বামী ও শাশুড়ি, তথা জামাই ও বেয়ানের সঙ্গে গ্রেপ্তার হয়েছেন নাবালিকার বাবাও।

Advertisement

পুলিশ জানিয়েছে, ওই নাবালিকা কিশোরীর বাড়ি দক্ষিণ ২৪ পরগনার নোদাখালি এলাকায়। হরিদেবপুরের বাসিন্দা এক তরুণের সঙ্গে নাবালিকার পরিচয় হয়। প্রায় দেড় মাস আগে ওই তরুণের হাত ধরেই বাড়ি ছাড়ে নাবালিকা কিশোরী। তরুণ ওই কিশোরীকে বিয়ে করে হরিদেবপুরে নিজের বাড়িতে নিয়ে যায়। বউমার বয়স ১৮ বছরের কম, তা জানা সত্ত্বেও নতুন বউকে বরণ করে নেন শাশুড়ি। শ্বশুরবাড়ির মদতেই চলতে থাকে ‘বালিকা বধূ’র ঘরকন্না। এর মধ্যেই রাজ‌্য সরকারি প্রকল্প 'কন‌্যারত্নে'র টাকা ওই নাবালিকার ব‌্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছয় বলে জানা যায়। এরপরই মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে ফোন করে মেয়ের বাবা জানান, মেয়ে তাঁদের বাড়িতে ফিরুক বা না ফিরুক, তা নিয়ে সমস‌্যা নেই। কিন্তু সরকারি প্রকল্পের ওই টাকা প্রত্যেক মাসে তাঁদের চাই। মেয়েকেও ফোনে এই কথা স্পষ্ট জানিয়ে দেন বাবা।

কিন্তু মেয়ে কন‌্যারত্নের টাকা তুলতেও বাপের বাড়ি যেতে নারাজ। ফোনে বাবার হুমকিতেও কোনও কাজ হয়নি। সে-ও বাবাকে স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে সে নড়বে না। এরপরই বাবা একটি এনজিও-র সাহায‌্য নেন। এনজিওকে জানান, তাঁর নাবালিকা মেয়ের বিয়ের কথা। এনজিও-র কর্মীরা খবর দেন হরিদেবপুর থানায়। পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে কিশোরীর শ্বশুরবাড়িতে যান। সেখান থেকেই পুলিশ ওই ‘বালিকা বধূ’কে উদ্ধার করে। নাবালিকার বিয়ে, অপহরণ ও নাবালিকার উপর যৌন নির্যাতন তথা পকসো মামলায় গ্রেপ্তার হন কিশোরীর স্বামী ও শাশুড়ি।

এবার কিশোরীর বাবা মেয়েকে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে বিপাকে পড়েন তিনিও। পুলিশ প্রাথমিকভাবে জানতে পারে যে, নাবালিকা মেয়ে বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার পরও ওই ব‌্যক্তি নোদাখালি থানায় কোনও মিসিং ডায়েরি বা অপহরণের অভিযোগ করেননি। নাবালিকা মেয়ে বিয়ে করেছে জেনেও পুলিশকে তা জানাননি। বিয়ের দেড় মাস পর শুধু সরকারি প্রকল্পের টাকা আদায়ের উদ্দেশেই তিনি পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে মেয়েকে উদ্ধার করতে যান। পুলিশের দাবি, এই ক্ষেত্রে মেয়ের বাবাও সমানভাবে অভিযুক্ত। তাই একই অভিযোগে ওই নাবালিকার বাবাকেও পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। মেয়েকে নিরাপদ জায়গায় রাখার ব‌্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement