ক্রমাগত মেয়ের কান্নায় অসহ্য হয়ে উঠেছিলেন। আর তা সহ্য করতে না পেরে শিশুকন্যাকে পিটিয়ে খুন করল বাবা। শুধু তাই নয়, খুনের পর প্রমাণ লোপাট করতে মেয়ের দেহ প্লাস্টিকে মুড়িয়ে ফেলে দেন ডাস্টবিনে। আর ওইভাবেই আবর্জনার গাড়ি শিশুটির নিথর দেহ নিয়ে চলে যায়। নৃশংস এই ঘটনাটি ঘটেছে ময়দান এলাকায়। ইতিমধ্যে অভিযুক্ত দেবজিৎ জানা ওরফে শুভজিৎকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দফায় দফায় জেরা করা হয় তাঁকে। জানা গিয়েছে, দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদে তিনিই যে মেয়েকে খুন করেছেন তা স্বীকার করে নিয়েছেন। যদিও এখনও পর্যন্ত দেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
সম্প্রতি ময়দানে যৌন হেনস্তার পর এক তিন বছরের শিশুকন্যাকে আছাড় মেরে খুন করে গ্রেপ্তার হয় তাঁর সৎ বাবা। ফের সেই ময়দানেই আরও এক শিশুকন্যাকে খুনের ঘটনা ঘটল। দেবজিৎ তার স্ত্রীর সঙ্গে থাকত ময়দানের ব্রিগেড অঞ্চলে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশ কিছুমাস আগেই শিশু কন্যাটি জন্ম নেয়। মেয়ের দিকে বিশেষ নজর দিতে পারতেন না মা। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকার কারণে সম্ভব হতো না। এদিকে প্রচন্ড মদ্যপান করতেন দেবজিৎ। ফলে কন্যা সন্তানের দেখভাল করা নিয়ে সবসময় স্বামী এবং স্ত্রীয়ের মধ্যে অশান্তি লেগে থাকত বলে দাবি।
পুলিশের দাবি, সম্প্রতি শিশুকন্যাটি বাবার কোলে থাকার সময়ই কান্নাকাটি করতে থাকে। দেবজিৎ মদ্যপ অবস্থায় মেয়েকে থামাতে না পেরে প্রচন্ড মারধর শুরু করে বলে বলে অভিযোগ। এমনকী কোলের সন্তানকে চড় ও ঘুসি মারা হয় বলেও দাবি। মারেই আঘাত সহ্য করতে না পেরেই মেয়ের মৃত্যু হয় বলে দাবি। এর পর প্রমাণ মুছে ফেলতে স্ত্রীকে কিছু না জানিয়ে মেয়ের দেহটি প্লাস্টিকে মুড়ে ময়দানের ডাস্টবিনে ফেলে দেয় সে। আবর্জনার গাড়ি অন্য ময়লার সঙ্গে শিশুটির দেহ নিয়ে চলে যায়। এদিকে শিশুটির মা প্রতিবেশীদের সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ চালিয়েও মেয়েকে পাননি। এর পরই তিনি ময়দান থানায় অপহরণের অভিযোগ দায়ের করেন।
তদন্ত শুরুর পর এলাকার বাসিন্দা ও শিশুটির বাবাকেও পুলিশ জেরা করে। বাবার আচরণে পুলিশের সন্দেহ হয়। দীর্ঘ জেরায় তিনি ভেঙে পড়েন। এর পর থেকে পুলিশ শিশুটির দেহের সন্ধান পেতে কলকাতা পুরসভার সঙ্গেও যোগাযোগ করে। যদিও এখনও পর্যন্ত শিশুটির দেহের সন্ধান মেলেনি। অভিযুক্ত বাবাকে জেরা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
