বিলবোর্ড বিতর্কের মাঝে এবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের (Abhishek Banerjee) ৯ নম্বর ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে (Camac Street Office) পুলিশ ও দমকল। সঙ্গে ছিলেন পুরসভার আধিকারিকরাও। তারাপীঠ-নিউ মার্কেটের হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মৃত্যুর পর রাজ্যজুড়ে অ্যাকশনে নেমেছে দমকল। বহুতল বিল্ডিংগুলিতে ফায়ার অডিট খতিয়ে দেখতে চলছে অভিযান। সোমবার দুপুরে অভিষেকের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসেও অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে শেক্সপিয়র সরণির পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে পৌঁছে যান দমকল আধিকারিকরা। বিল্ডিংয়ের বেসমেন্ট থেকে ছাদ পর্যন্ত প্রতিটি ফ্লোরে কোনায় কোনায় পরিদর্শন করেন আধিকারিকরা। বিল্ডিংয়ের বাইরের একটি শেড দমকলের অনুমোদন না নিয়েই তৈরি হয়েছে। প্রাথমিক পরিদর্শনের পর এমনটাই জানিয়েছে দমকল।
দমকল সূত্রে খবর, সাত তলা ওই বিল্ডিংয়ের পাঁচ তলা পর্যন্ত ফায়ার সিস্টেমে কোনও গন্ডগোল দেখা না গলেও, ছয় এবং সাততলার ক্ষেত্রে বেশকিছু গলদ নজরে এসেছে দমকল কর্মীদের। দেখা গিয়েছে, সেখানে ওয়াটার স্প্রিঙ্কলার, ওয়াটার রিজারভার, ফায়ার অ্যালার্ম সহ অন্যান্য অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থাপনা সচল নয় বলেই জানা গিয়েছে দমকলের তরফে।
সোমবার ভরদুপুরে আচমকাই অভিষেকের অফিসে পৌঁছে যান দমকল আধিকারিকরা। সে সময় গোটা অফিস ঘিরে ফেলেন ক্যামাক স্ট্রিটের শেক্সপিয়র সরণির পুলিশ। মূল গেটের সামনে দিয়ে ঢুকতেই দমকল আধিকারিকদের নজরে আসে বিল্ডিংয়ের সামনের একটি টিনের শেড। সেখানেই কিছুক্ষণ থমকে যান আধিকারিকরা। আশপাশটা বেশকিছুক্ষণ পরিদর্শনও করেন। ক্যামাক স্ট্রিটের এই অফিসে কী কারণে আচমকা ভিজিট, সাংবাদিকরা প্রশ্ন করায়, ভিডিশনাল ফায়ার সেফটি অফিসার সৌরভ বাগ জানান, বর্তমানে সব ছোট-বড় সব বিল্ডিংয়েই ফায়ার অডিট চলছে। এটিও তেমনই। বিল্ডিংয়ে যথাযথ অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতেই এদিন পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে দমকল আধিকারিকরা যান বলে জানা যায়। দমকল সূত্রে খবর, সাত তলা ওই বিল্ডিংয়ের পাঁচ তলা পর্যন্ত ফায়ার সিস্টেমে কোনও গন্ডগোল দেখা না গলেও, ছয় এবং সাততলার ক্ষেত্রে বেশকিছু গলদ নজরে এসেছে দমকল কর্মীদের। দেখা গিয়েছে, সেখানে ওয়াটার স্প্রিঙ্কলার, ওয়াটার রিজারভার, ফায়ার অ্যালার্ম সহ অন্যান্য অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থাপনা সচল নয় বলেই জানা গিয়েছে দমকলের তরফে। বেসমেন্ট থেকে ছাদ পর্যন্ত গোটা অগ্নিনির্বাপণ খতিয়ে দেখার পর, উপর থেকে নীচের ফ্লোরগুলিতে পুনরায় ফায়ার সেফটি চেক করে দমকল।
ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে ফায়ার অ্যালার্ম খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিজস্ব ছবি।
প্রসঙ্গত, সোমবার ক্যামাক স্ট্রিট ইস্যুতে এফআইআরের অনলাইন কপি নিয়ে পুলিশকে পালটা ইমেল করেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার তাঁকে শেক্সপিয়র সরণি থানায় তলব করা হয়েছিল। তার ঠিক আগেই ইমেল পাঠান অভিষেক। ক্যামাক স্ট্রিটের পার্টি অফিস থেকে ‘বেআইনি’ বিলবোর্ড খোলা নিয়ে অভিষেকের বাড়িতে নোটিস পাঠানো হলেও অভিযোগ, সেই এফআইআর বা নোটিসের কপি কলকাতা পুলিশের ওয়েবসাইটে নেই। সেই প্রশ্ন তুলেই রবিবার রাতে পুলিশকে ইমেল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী অর্ক নাগ। কলকাতা পুলিশও পালটা প্রমাণ-সহ ওয়েবসাইটে আপলোড করা নথি দেখিয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে, সোমবার ক্যামাক স্ট্রিট কাণ্ডে শেক্সপিয়র সরণি থানায় হাজিরা এড়ান সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন। বেলা বারোটা নাগাদ থানায় ডেকে পাঠানো হয়েছিল তাঁকে। তবে তার আগেই আইনজীবী মারফত সময় চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন সাংসদ। তাঁর বাড়িতে দ্বিতীয় নোটিস যায় শেক্সপিয়র থানার তরফে।
