একেবারে প্রকাশ্য দিবালোকে রাস্তার উপর থেকে ৬ মাসের শিশুকে অপহরণ। সারারাত তল্লাশি চালিয়ে শিশুপুত্রকে উদ্ধার করল কলকাতা পুলিশ (Kolkata Police)। ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন দুই মহিলাও। ধৃতদের নাম বন্দনা রাই এবং মধু শেখ। একইসঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয়েছে মিঠুন পাসোয়ান নামে এক ট্যাক্সি ড্রাইভারকেও। কী কারণে ওই শিশুকে অপহরণ করা হল, তা জানতে ইতিমধ্যে ধৃত তিনজনকে জেরা শুরু করেছে পুলিশ। ঘটনার সঙ্গে কোনও শিশু পাচার চক্রের যোগ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এমনকী ধৃত দুই মহিলার নিঃসন্তান বলে প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। আর সেই কারণেই কি শিশু চুরি? তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। এমনকী ধৃত ওই ট্যাক্সি চালকের ভূমিকাও তদন্তের রাডারে রয়েছে।
তদন্তের শুরুতেই গড়িয়াহাট ফ্লাইওভার সংলগ্ন এলাকা-সহ আশেপাশে লাগানো প্রায় ৬০টি সিসিটিভির ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয়। প্রায় কয়েকঘণ্টার মধ্যেই এই কাজটি সম্পূর্ণ করেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।
জানা গিয়েছে, শিশুর বাবা শ্রমিকের কাজ করেন। গড়িয়াহাট ফ্লাইওভারের নিচে বসবাস তাঁদের। পুলিশ সূত্রে খবর, রবিবার সকালে শিশুকে রেখে আশেপাশে যান তাঁর বাবা-মা। বেশ কিছুক্ষণ বাদে ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখেন শিশু সেখানে নেই। এরপরেই খোঁজখবর নেওয়া শুরু হয়। দীর্ঘ খোঁজ চালিয়ে বছর ৬ এর শিশুটির খোঁজ পেতে ব্যর্থ হন স্থানীয় মানুষজন। তবে তাঁরা জানতে পারেন, একটি ট্যাক্সি করে বেশ কয়েকজন এসে শিশুকে তুলে নিয়ে গিয়েছে। এরপরেই বেনিয়াতলা পুলিশের দ্বারস্থ হন শিশুটির বাবা-মা। বিষয়টি জানার পরেই শুরু হয় তদন্ত। কিন্তু খুব একটা সহজ ছিল না। কার্যত পুরো বিষয়টি চ্যালেঞ্জ হিসাবে নেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।
তদন্তের শুরুতেই গড়িয়াহাট ফ্লাইওভার সংলগ্ন এলাকা-সহ আশেপাশে লাগানো প্রায় ৬০টি সিসিটিভির ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয়। প্রায় কয়েকঘণ্টার মধ্যেই এই কাজটি সম্পূর্ণ করেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। সেখানকার একটি ফুটেজে হলুদ ট্যাক্সিকে চিহ্নিত করেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। কিন্তু সেটির নম্বর পেতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়। যদিও পরবর্তী সময়ে দেখা যায় ট্যাক্সিটি বাইপাস হয়ে জয়নগরের দিকে এগোচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে জয়নগর পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন আধিকারিকরা। পুলিশ আধিকারিকরা জানতে পারেন, জয়নগরের বকুলতলা বলে একটি প্রত্যন্ত এলাকায় ট্যাক্সিটি দুই মহিলাকে নিয়ে গিয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে সেখানে পৌঁছে যান আধিকারিকরা। স্থানীয় মানুষজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং জয়নগর পুলিশের সাহায্যে গভীর রাতে অভিযুক্তের বাড়ি কার্যত ঘিরে ফেলা হয়। সেখান থেকেই হাতেনাতে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতদের শিশুটিকে বিক্রির কোনও ছক ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে খবর।
