সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: চোখের সামনেই খেলছিল দেড় বছরের শিশুটা। মা ব্যস্ত ছিলেন রোজকার কাজে। কখন যে বাথরুমে গিয়ে সলিলসমাধি হল, কেউ টের পর্যন্ত পেলেন না। বাথরুমে রাখা বালতির জলে ডুবেই মৃত্যু হল দেড় বছরের রাজগোপালের। মর্মান্তিক এই ঘটনা ঘটেছে মেটিয়াবুরুজের ব্রাহ্মসমাজ লেনে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মেটিয়াবুরুজের বাসিন্দা নরেশ বেহড়ার ছোট ছেলে রাজগোপাল। সবে মাত্র হাঁটতে শিখেছিল সে। সোমবার সকালে কাজের জন্য বাইরে ছিলেন নরেশবাবু। শেষবার যখন ছেলেকে দেখেন তখন ড্রয়িংরুমেই খেলায় মগ্ন ছিল সে। স্বামী চলে যাওয়ার পর ছেলেকে নিজের মতো খেলতে দেখে হাতের কাজগুলো একটু সেরে রাখছিলেন নরেশবাবুর স্ত্রী। অনুমান করা হচ্ছে, খেলতে খেলতেই কোনওভাবে বাথরুমের দরজা খোলা পেয়ে সেখানে চলে যায় খুদে। জল নিয়ে খেলতে খেলতেই উলটে বালতিতে পড়ে যায়।
[সাধনায় সঙ্গিনী করার ছলনায় সল্টলেকে ‘বাবা’র বাড়িতে অবাধ যৌনাচার]
কতক্ষণ এভাবে সে পড়েছিল কেউ জানে না। কিছুক্ষণ পরই রাজগোপালের খোঁজ পড়ে। সারা বাড়ি তন্নতন্ন করে খুঁজে বাথরুমে গিয়ে দেখা মেলে তার। কিন্তু ততক্ষণে মৃত্যু হয়েছে একরত্তির। নরেশবাবু ও তাঁর স্ত্রীর চিৎকারে আশেপাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা ছুটে আসেন। পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ এসে মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। শিশুটির মা-বাবা ও পড়শিদের রুটিন জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ।
আকস্মিক এই ঘটনায় শোকাহত আবাসনের বাসিন্দারা। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন, দেড় বছরে শিশুর এতক্ষণ ধরে কোনও সাড়াশব্দ নেই। বাবা-মায়ের মনে একবারও প্রশ্ন জাগল না? এতটা উদাসীন কেমন করে হতে পারেন তাঁরা। কেউ কেউ আবার বলছেন, এর জন্য কারও উদাসীনতা দায়ী নয়। এটা কেবল একটি দুর্ঘটনামাত্র। যা মর্মান্তিকভাবে ঘটে গিয়েছে। ছেলেকে হারিয়ে শোকস্তব্ধ বেহড় দম্পতি। সারা ঘরে ছড়িয়ে রয়েছে রাজগোপালের খেলনা। তা দেখেই স্মৃতি হাতড়ে চলেছেন দু’জনে।
[শীতের মতোই এবার রেকর্ড গরম পড়তে পারে রাজ্যে, পূর্বাভাস হাওয়া অফিসের]
The post মর্মান্তিক! বাথরুমের জল ভরতি বালতিতে ডুবে মৃত্যু একরত্তির appeared first on Sangbad Pratidin.
