সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: অভিভাবকদের আন্দোলন ভেস্তে দিতে জি ডি বিড়লায় ঢুকছে বহিরাগতরা। অভিযোগ অভিভাবকদের। মানববন্ধন তৈরি করে বহিরাগতদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন তাঁরা।
[ গোয়েন্দাদের জেরায় ভেঙে পড়লেন ‘ডাকাবুকো’ প্রিন্সিপাল শর্মিলা ]
মঙ্গলবার সকালে অভিভাবকদের সঙ্গে স্কুল কর্তৃপক্ষের বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা সম্ভব হয়নি। প্রিন্সিপালকে গ্রেপ্তার করা দাবিতে অনড় অভিভাবকরা। একই দাবি নির্যাতিতা শিশুর বাবারও। এই পরিস্থিতিতেই আজ লালবাজারে অধ্যক্ষাকে ডেকে পাঠানো হয়। চলে জেরা। টয়লেটের কাছে যে অ্যাটেনডেন্টের থাকার কথা, তিনি কোথায় ছিলেন। অভিযুক্ত দুই শিক্ষক ঘটনার সময় কোথায় ছিলেন। আগেও তাদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছিল কিনা, এরকমই প্রশ্ন করা হয় তাঁকে। সূত্রের খবর, পুলিশি জেরার মুখে ভেঙেও পড়েন জাঁদরেল অধ্যক্ষা। এদিকে নিজেদের দাবিদাওয়া নিয়ে আজও স্কুল চত্বরে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন অভিভাবকরা। অভিযোগ, সেই সময়ই বাইরে থেকে একদল লোক স্কুল চত্বরে চলে আসেন। নিজেদের পরিচয় জানাতে চাননি তাঁরা। শুধু জানান, তাঁরা শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ এবং এর বিচার চান। অভিভাবকদের আন্দোলনকে হাইজ্যাক করে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ। সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ শুরু করেন অভিভাবকরা। মানববন্ধন তৈরি করে, তাঁরা বাইরের কোনও ব্যক্তিকে ঢুকতে বাধা দেন।
[ ছাত্রীদের সঙ্গে অভব্য আচরণ করলেই জানিয়ে দেবে নয়া যন্ত্র ]
অভিভাবকদের দাবি, এটা একান্তই তাঁদের নিজস্ব আন্দোলন। স্কুলে যাঁদের বাচ্চা পড়ে, তাঁরাই বিভিন্ন দাবিদাওয়াতে অবস্থান করছেন। এক শিশুর উপর নির্যাতন হয়েছে। অন্য শিশুর উপরও যে তা হবে না, সে গ্যারান্টি নেই। স্কুলের তরফে শিশুদের নিরাপত্তায় গিফিলতি আছে বলেও মনে করছেন তাঁরা। এই সবকিছুরই সুরাহা চাইছেন তাঁরা। কিন্তু সেখানে কোনও রাজনীতির রং লাগুক, বা বাইরের কেউ এসে আন্দোলনের পুরোধা হয়ে উঠুক তা তাঁদের কাম্য নয়। কোনওভাবেই বাইরের কেউ এসে আন্দোলন বানচাল করে দিক, তা চাইছেন না তাঁরা। এদিন বহিরাগতদের সঙ্গে অবস্থানরত অভিবাবকদের একচোট বচসাও হয়। কোনও কোনও ক্ষেত্রে তা হাতাহাতিতেও গড়ায়।
[ নির্যাতিতার নাম প্রকাশ, ফের বিতর্কে জি ডি বিড়লার প্রিন্সিপাল ]
প্রসঙ্গত, জি ডি বিড়লায় উপস্থিত হয়েছিলেন বিজেপি সাংসদ রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। কিন্তু তাঁকেও ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। রাজনীতিহীন আন্দোলনের মাধ্যমেই শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে চাইছেন তাঁরা। অন্যদিকে অধ্যক্ষা যেভাবে অভিযুক্তদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তাতেও তাঁরা ক্ষুব্ধ। সোমবারই জি ডি বিড়লার মুখপাত্র জানান, এখনই অধ্যক্ষাকে সরানোর কোনও পরিকল্পনা নেই। যদিও আজও অধ্যক্ষার গ্রেপ্তারের দাবি তুলেছেন অভিভাবকরা।
[ ‘দু-একজনের জন্য গোটা শিক্ষক সমাজের ভাবমূর্তিতে আঘাত করা ঠিক নয়’ ]
বিক্ষোভের আঁচে তপ্ত এম পি বিড়লা চত্বরও। অভিযুক্ত মনোজ মান্নাকে ইতিমধ্যেই সাপপেন্ড করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। তবে পাশাপাশি উঠে আসছে গণেশ নামে আর এক ব্যক্তির নাম। স্কুল অবশ্য গণেশের সঙ্গে সম্পর্ক অস্বীকারই করেছে। কিন্তু বিভিন্ন ছবিতে দেখা যাচ্ছে, ওই ব্যক্তি স্কুলের সঙ্গেই যুক্ত। সোমবার বিক্ষোভ চলাকালীন অভিভাবকদের উপর পুলিশের লাঠিচার্জেরও অবিযোগ ওঠে। যদিও পুলিশের তরফে জানানো হয়, টানা ছয় ঘণ্টা ধরে বিক্ষোভ চলছিল। দীর্ঘক্ষণ অবরুদ্ধ ছিল জেমস লং সরণী। শেষমেশ পড়ুয়াদের নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দিতেই বলপ্রয়োগ করতে হয় পুলিশকে। মঙ্গলবার সকাল থেকেই এম পি বিড়লা স্কুল চত্বরে দফায় দফায় বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন অভিযুক্তরা। দুই নামী স্কুলে দুই শিশুর হেনস্তার ঘটনায় ক্ষুব্ধ বাংলার মানুষ। গতকাল দোষীদের শাস্তি চেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। একই দাবি বাংলার সর্বস্তরের মানুষেরও।
ছবি- শুভাশিস রায়
The post অভিভাবকদের আন্দোলন বানচাল করতে জি ডি বিড়লায় ‘বহিরাগত’! appeared first on Sangbad Pratidin.
