বুধবার নবান্নের তরফে জারি হওয়া নির্দেশিকায় সাফ বলা হয়েছিল, অনুমতি ছাড়া সংবাদমাধ্যম বা সমাজমাধ্যমে কোনও মতামত বা মন্তব্য করা যাবে না। ফলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল সমস্ত সরকারি কর্মীদের ক্ষেত্রেই এই নির্দেশিকা প্রযোজ্য। বৃহস্পতিবার নতুন করে বিজ্ঞপ্তি জারি করে নবান্ন স্পষ্ট করল, আওতায় থাকছে সরকারি বোর্ড, নিগম, সরকারি অধীনস্ত ও অন্যান্য প্যারাস্ট্যাটাল অর্গানাইজেশনের কর্মীরা। ফলে শিক্ষাক্ষেত্রে ছাড় রয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
আইএএস, আইপিএস, বিসিএস, পুলিশ সার্ভিস এবং রাজ্য সরকারি কর্মীদের তথ্য আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে যে গাইডলাইন রয়েছে তা মেনে চলার নির্দেশিকা বুধবারই জারি করেছিল রাজ্য সরকার। ফলে 'ব্ল্যাঙ্কেট ব্যান'-এর আশঙ্কা তৈরি হয়। এদিন নতুন নির্দেশিকায় সেই আশঙ্কা নিরসন করল খোদ নবান্ন। বৃহস্পতিবার কর্মীবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার দপ্তর ফের নির্দেশিকা দিয়ে জানিয়েছে, পুরনো নির্দেশের পাশাপাশি এবার এই ক্ষেত্রে যুক্ত করা হল সরকারি বোর্ড, নিগম, সরকারি অধীনস্ত ও অন্যান্য প্যারাস্ট্যাটাল অর্গানাইজেশন-এ কর্মরত অফিসার ও কর্মীদের ক্ষেত্রেও এই নির্দেশ প্রযোজ্য।
এদিকে রাজ্য সরকারের নয়া নির্দেশিকাকে শৃঙ্খলারক্ষার নামে সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকারে হস্তক্ষেপ ও গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের তরফে মুখপাত্র ও বিধায়ক কুণাল ঘোষ তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করে অভিযোগ করেন, "সরকারি কর্মীদের বাকস্বাধীনতা ও সংবিধানের ১৯ নম্বর ধারা অনুসারে মৌলিক অধিকারে হস্তক্ষেপ করল রাজ্যের বিজেপি সরকার। শুধু তাই নয়, এই নির্দেশের পর ডিএ থেকে শুরু করে নানা দাবি-দাওয়া নিয়ে আর কোনও আন্দোলন করতে পারবেন না সরকারি কর্মীরা।" একইসঙ্গে আশঙ্কা প্রকাশ করে তৃণমূল মুখপাত্র বলেন, "আগামী দিনে এই সরকার এমন কোনও সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে যে কারণে বড় ধরনের প্রতিবাদ-আন্দোলন হতে পারে সেই বিক্ষোভ বন্ধ করতেই নির্দেশিকা জারি করে সরকারি কর্মীদের মুখে সেলোটেপ মেরে দেওয়া হল।" বুধবারের নির্দেশিকা প্রকাশের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বৃহস্পতিবার প্রয়োগ ক্ষেত্রে বদল আনল নবান্ন।
