ভোটে হারের পর এই প্রথম পথে প্রতিবাদে দেখা গেল তৃণমূল কংগ্রেসকে। বুধবার ভোট পরবর্তী হিংসা ও হকার উচ্ছেদের প্রতিবাদে বিধানসভায় ধরনায় বসেছিলেন তৃণমূলের বিধায়করা। বর্তমানে তৃণমূলের বিধায়ক সংখ্যা ঠেকেছে ৮০-তে। কিন্তু বুধবার বিধানসভার প্রতিবাদ কর্মসূচিতে দেখা যায়নি দলের ৫০ বিধায়ককেই। বৃহস্পতিবারও গুটিকতক কর্মী নিয়ে শিয়ালদহে স্টেশনে দেখা গেল তৃণমূলের ৩ বিধায়ককে।
৪ মের ফলপ্রকাশের আগে পর্যন্ত। রাজ্যের শাসনভার ছিল তাদের হাতে। দহরম মহরম কম ছিল না। নেত্রীর এক ডাকে হাজির হাজার কর্মী। তবে ক্ষমতা হাত থেকে যেতেই সম্পূর্ণ ভোলবদল! দলনেত্রীর নির্দেশ মতো বৃহস্পতিবার হাওড়া, শিয়ালদহ ও বালিগঞ্জে হকার উচ্ছেদের প্রতিবাদ কর্মসূচির পরিকল্পনা ছিল। সেই মতোই দলের 'ওবিডিয়েন্ট' ৩ বিধায়ক শুক্রবার শিয়ালদহে প্লাস্টিকের ত্রিপল পেতে চোঙ হাতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। তবে ভোটের ফলপ্রকাশের পর থেকে গ্রাসরুট লেভেলের কর্মীদের মধ্যে যে অনীহা চরমে, তা এদিনও আরও একবার প্রকাশ্যে এল। হাতে গোনা কয়েকজন কর্মী নিয়ে এদিন বিক্ষোভ কর্মসূচিতে দেখা গেল বিধায়ক কুণাল ঘোষ, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় ও মদন মিত্রকে। অন্যদিকে হাওড়ায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কর্মসূচির জন্য তৃণমূলের বিক্ষোভে অনুমতি দেয়নি পুলিশ। বালিগঞ্জ স্টেশন চত্বরেও অনুমতি অমিল থাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনই করতে পারেনি তৃণমূল।
শিয়ালদহে তৃণমূলের কর্মসূচিতে গুটিকয়েক কর্মী। ছবি: অরিজিৎ সাহা।
ফলপ্রকাশের পর প্রায় ১৫ দিন পেরিয়ে গেলেও ঘাসফুল শিবিরের তরফে সেরকম কোনও পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যায়নি। কার্যত প্রকাশ্যেই আসেননি তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে কর্মীদের হেনস্তার অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ করলেও তা আটকে রয়েছে সোশাল মিডিয়াতেই। সরাসরি কোনও কর্মীর কাছে পৌঁছননি নেতারা। হকার উচ্ছেদের বিরোধিতাও করা হয়েছে সেই সোশাল মিডিয়াতেই। ফলে ক্রমশ কর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে দলের। এটা যে ভালো ইঙ্গিত নয়, তা খুব ভালো করেই জানেন দলের পোড় খাওয়া নেতারা। প্রসঙ্গত, বুধবারে কালীঘাটে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা বৈঠকে বিধায়করাই বলেন, এভাবে ঘরে বসে মিটিং করে কিছু হবে না। হারানো জমি পুনরুদ্ধার করতে পথে নামতে হবে। সেই মতোই বিধানসভায় আম্বেদকর মূর্তির পাদদেশে ভোট পরবর্তী হিংসা ও হকার উচ্ছেদের প্রতিবাদে ধরনায় বসেন তৃণমূল বিধায়করা। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, পালাবদলের পর দলের প্রথম কর্মসূচিতে দেখা মেলেনি ৫০ বিধায়ককে। ঠিক তারপরের দিন স্টেশন সংলগ্ন চত্বরে তৃণমূলের বিক্ষোভ কর্মসূচি খাঁ খাঁ করছে। যা তৃণমূলের ভগ্নপ্রায় দশারই প্রমাণ, বলছে ওয়াকিবহল মহল।
