জেলা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লেখা চিঠির উত্তর দেবেন ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে একাধিক চিঠি আসত স্বাস্থ্যভবনে। যার অধিকাংশ জমে জমে চিঠির পাহাড়। কেউ উত্তর দেয়নি। প্রশাসনিক ব্যস্ততায় স্বাস্থ্যভবনে কালেভদ্রে আসতেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। শুক্রবার স্বাস্থ্যভবনের সেই রিসিভিং সেকশনে চূড়ান্ত কর্মব্যস্ততা। সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে সাফ করতে হবে চিঠির পাহাড়।
জেলায় কোনও হাসপাতালে চিকিৎসা মিলছে না। পরিষেবায় গাফিলতি রয়েছে। কিম্বা বদলির জন্য কাতর আবেদন। নানান বিষয় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখতেন অনেকেই। রিসিভিং সেকশনের এক কর্মী জানিয়েছেন, খামের ওপর লেখা ‘টু দ্য হেলথ মিনিস্টার’, এমন সাড়ে তিন হাজার চিঠি জমে রয়েছে স্বাস্থ্যভবনে। দীর্ঘ ১১ বছর ধরে জমেছে চিঠি। শুক্রবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ‘‘রাজ্যের পালাবদলের পর অনেককেই বলেছি কোনও অসুবিধা হলে স্বাস্থ্যদপ্তরে লিখিত অভিযোগ করুন। অনেকেই জানিয়েছে আপনাদের দপ্তরে চিঠি দিয়ে কি লাভ? উত্তর তো আসে না। ২০১৫-১৬ সালে চিঠি দিয়েছি স্বাস্থ্যদপ্তরে। একটারও উত্তর আসেনি।’’ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ‘‘খোঁজ নিয়ে আমি দেখেছি সঠিক কথা। স্বাস্থ্যভবনের রিসিভিং সেকশনে গিয়ে দেখেছি ২০১৫ সালের চিঠি। ২০১৬ সালের চিঠি। সব মোড়ক বন্দি। কেউ খোলেওনি।"
স্বাস্থ্যভবনে একাধিক বিভাগ রয়েছে। জনস্বাস্থ্য, স্বাস্থ্যসাথী, ক্লিনিকাল এস্টাব্লিশমেন্ট। আলাদা আলাদা বিভাগের সমস্যার জন্য চিঠি দিয়েছিলেন প্রেরকরা। স্বাস্থ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, ‘‘আলাদা আলাদা বিভাগের বাক্স করতে। সাফ সুতরো করে চিঠি গুলোকে সেই সেই বাক্সে রাখতে হবে।’’ তারপর? ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের কথায়, ‘‘আমি যতটা পারব উত্তর দেব। ২০১৬ সালে আমরা ছিলাম না। কিন্তু উত্তর দেব সমস্ত চিঠির।’’ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গেও এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। শুক্রবার স্বাস্থ্যভবনে মন্ত্রীর বক্তব্য, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রতিটি চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করতে হবে। সেইমতো প্রতিটি চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করা হবে।’’
