'ভারত কেশরী' ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আত্মত্যাগ এতদিন যেন কিছুটা 'ব্রাত্য'ই ছিল। ক্ষমতার পালাবদলের পর অবশ্য বদলেছে পরিস্থিতি। মহাসমারোহে পালিত হচ্ছে তাঁর জন্মবার্ষিকী। ৮০ তম স্বাধীনতা দিবসে রেড রোডের বিশেষ অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকেও শ্যামাপ্রসাদ স্মরণ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। ২০৪৭ সালে 'বিকশিত ভারতে'র লক্ষ্যপূরণে বাংলাকেও শামিল হতে হবে বলেই বার্তা তাঁর। রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে সকলকে একযোগে কাজের ডাকও দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "২০৪৭ সালে বিকশিত ভারতের স্বপ্ন তখনই সম্পূর্ণ হবে যখন বিকশিত পশ্চিমবঙ্গ গড়ে তুলে পারব। গৌরবের পশ্চিমবঙ্গ। ২০ জুন, ১৯৪৭ সালের শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এবং প্রণবানন্দ মহারাজের যৌথ প্রতিষ্ঠায় ভারতভুক্তির অগ্রাধিকার পায়। কর্মসংস্থান, নারী ক্ষমতায়ন, সুরক্ষাকে সুনির্দিষ্ট করে পাহাড় থেকে সুন্দরবনের উন্নতিকে ছড়িয়ে দিতে চাই।" এর আগে গত ১৪ আগস্ট ‘বিভাজন বিভীষিকা’ স্মরণ দিবসের অনুষ্ঠানেও শ্যামাপ্রসাদের কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী।
রাজ্যবাসীর উদ্দেশে তাঁর বিশেষ বার্তা দেন শুভেন্দু। বলেন, "বাংলা রাষ্ট্রবাদের জায়গা, ঋষি অরবিন্দ, নেতাজি, ক্ষুদিরামের মাটি। এই মাটিতে মাতঙ্গিনী হাজরা, বীণা দাসের মতো বীরাঙ্গনারা বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রামে লড়াই করে গিয়েছেন। আসুন হাতে হাত মিলিয়ে রাজনৈতিক সংকীর্ণতা দূরে সরিয়ে রেখে বাংলার উন্নয়নে শামিল হই।" মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস, "যে সংকল্প নিয়ে গত ৯ মে, ২০২৬ সালে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ব্রিগেডে শপথ নিয়েছি। সেই শপথের কোনও অসম্মান হবে না।"
এদিকে, এই প্রথমবার রেড রোডে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা দিবস পালন করা হয়। শনিবার সকালে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নেতাজির মূর্তিতে মাল্যদানের পর রেড রোডে পতাকা উত্তোলন করেন। কর্মক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য ১৪ জন আইপিএসকে ‘মুখ্যমন্ত্রীর পদক’ প্রদান করেন। প্যারেডে কম্যান্ডার এবং সহকারী দু’জনে অংশ নেন। কুচকাওয়াজের পর মোট ১২টি ট্যাবলো প্রদর্শিত হয়। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্য়ায়ের ট্যাবলো দেখানো হয়। তারপর একে একে অন্নামৃত, কন্যারত্ন ও অন্নপূর্ণা যোজনা, আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দির, দুর্গাশক্তি বাহিনী, কলকাতা পুলিশ এবং কলকাতা পুরসভার ট্যাবলো প্রদর্শিত হয়।
