সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ধর্মের নামে রাজনীতি ঠেকাতে সম্প্রীতির বার্তা দিতে পথে নামল কলকাতার বিদ্বজ্জনরা। রবিবারের বারবেলায় ধর্মতলা থেকে শুরু হয় মিছিল। সম্প্রীতির বার্তা দিতে দিতে পায়ে পায়ে মিছিল এগোয় রবীন্দ্রসদনে। রবিবারের কর্মসূচি এই পর্যন্তই। বিদ্বজ্জনদের তরফে মিছিলের পুরোভাগে ছিলেন বিশিষ্ট চলচ্চিত্র পরিচালক তরুণ মজুমদার, নাট্যকার রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত, পবিত্র সরকার, দেবদূত ঘোষ, মনোজ ভট্টাচার্য, মেঘনাদ ভট্টাচার্য প্রমুখ। মিছিলের মাঝ বরাবর আরও একটি ব্যানার। সেই ব্যানার হাতে রাজনৈতিক নেতারা। সম্প্রীতির টানে বিদ্বজ্জনদের মিছিলে পা মেলায় রাজ্যের বামপন্থী নেতা-নেত্রীরা। ব্যানার হাতে হাঁটেন বামফ্রন্টের বিমান বসু, সূর্যকান্ত মিশ্র, শ্যামল চক্রবর্তী, বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যরা। মিছিলের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত ছিলেন কবি শঙ্খ ঘোষ।
[হারানো বল কুড়োতে গিয়ে সলিলসমাধি, ময়দানে মৃত্যু ছাত্রের]
‘এখন ধর্মের নামে রাজনীতি চলছে। প্রত্যেক নাগরিকের উচিত এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো।’- পায়ে পায়ে একথাই জানালেন তরুণ মজুমদার। প্রাণের টানে মিছিলে হাঁটতে এসেছেন টলিউড অভিনেতা দেবদূত ঘোষ। বললেন, ‘আমাদের দেশটা সব মানুষের সব ধর্মের। সেটা বোঝানোর সময় এসেছে। রাজ্যের সংখ্যালঘু মানুষ আতঙ্কিত মনে যাতে বাস না করেন। তাঁদের একটু ভরসা দিতেই আজকের এই মিছিল।’
মেঘনাদ ভট্টাচার্য জানালেন, ‘ধর্মের নামে রাজনীতি হচ্ছে। এটা ভয়ঙ্কর ব্যাপার। আমাদের পরম্পরায় কোনওদিনই এসব ছিল না। চিরায়ত কাল থেকে আমাদের সহাবস্থানের সংস্কৃতি চলে আসছে। কিন্তু এখন সেই সংস্কৃতি ভাঙতে চলেছে। ধর্মের নামে রাজনীতি চলছে। বিপদ, ভয়ঙ্কর বিপদ। আমরা এখানে এসেছি সেই ভয়ঙ্কর বিপদ ঠেকাতে। আমরা যেকোনও অত্যাচারিত মানুষ, আক্রান্ত মানুষের পক্ষে আছি। এই বার্তা দিতেই আজ মিছিলে পা মিলিয়েছি।’
পার্ক স্ট্রিটের কাছে মিছিল পৌঁছলে মুখ খোলেন বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। সিপিএম নেতা তথা কলকাতার প্রাক্তন মেয়র। বললেন, ‘হিংসা সুবিধাবাদীর দুনিয়া চলছে। অনেকে এই মিছিলে পা মেলাননি। তাঁরা হয়তো সম্প্রীতির ভিন্ন অর্থ করেন। সেসব তাঁদের বোধ ও বিবেচনার বিষয়। আমি সম্প্রীতি বলতে বুঝি ধর্মহীন মানবতাবাদী চিন্তা।’
[পঞ্চায়েতে দিকে দিকে সংঘর্ষ, ভোটকর্মীদের অভয় দিতে মাঠে নামল কমিশন]
The post সম্প্রীতির বার্তা দিতে শহরের পথে বিদ্বজ্জনদের মিছিল, পায়ে পায়ে বামনেতারাও appeared first on Sangbad Pratidin.
