shono
Advertisement
ISI Spy Network

তবলিঘি জামাত-নেপাল-আইএসআই, করোনাকালেই 'মিশন বাংলা'! জেরায় 'প্যান্ডোরার বাক্স' খুলল রানা

তবলিঘি জামাতের সমাবেশে চর নিয়োগ! ২০২০ সালে নেপালে এই ফাঁদ পেতেছিল আইএসআই। ভারতকে অশান্ত করতে সুদূর হিমালয়ের বুকে তৈরি হয়েছিল নীল নকশা!
Published By: Suhrid DasPosted: 03:27 PM Aug 18, 2026Updated: 04:06 PM Aug 18, 2026

তবলিঘি জামাতের সমাবেশে চর নিয়োগ! ২০২০ সালে নেপালে এই ফাঁদ পেতেছিল আইএসআই। ভারতকে অশান্ত করতে সুদূর হিমালয়ের বুকে তৈরি হয়েছিল নীল নকশা! এই সমস্ত চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে পাক গুপ্তচর রানা রউফকে জেরা করে। 

Advertisement

গোয়েন্দাদের সূত্র জানিয়েছে, ৬ বছর আগে, ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে নেপালে তবলিঘি জামাতের আয়োজন করা হয়। নেপালের সাপতারি জেলার বোদবারসাইন এলাকায় বিপুল জমায়েত হয়। সেখানেই বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, কুয়েত, কাতার থেকে কয়েক লক্ষ মানুষ আসেন। গোয়েন্দাদের মতে, এই সুযোগই নিয়েছিল পাকিস্তান। এই আন্তর্জাতিক ধর্মসভা 'আলামি তবলিঘি ইজতেমা'য় যোগ দেওয়ার নামে পাকিস্তান থেকে আসেন কয়েকজন আইএসআই কর্তাও। তাঁদের নজরে ছিল ভারতের কিছু বাসিন্দা ও নেপালে কর্মরত কিছু পাকিস্তানি, যাদের ভারত ও বাংলাদেশে যাতায়াত রয়েছে। 

সম্প্রতি রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের হাতে ধরা পড়েছে পাক চর রানা রউফ খালিদ ওরফে সানি ওরফে ওয়াহাব আলম। তাকে জেরা করে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য এসেছে গোয়েন্দাদের হাতে। জানা গিয়েছে, নেপালে এজেন্টদের নিয়ে বৈঠক করেন কয়েকজন আইএসআই কর্তা। কীভাবে পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় নেটওয়ার্ক ও সেল তৈরি হবে, তা নিয়ে আলোচনা হয়। পাকিস্তানের হয়ে কাজ করলে হাওলায় এজেন্টদের কাছে প্রয়োজনীয় টাকা পৌঁছে যাবে বলেও টোপ দেওয়া হয়।


পাক চর রানা নিজেও উপস্থিত ছিল ওই 'আলামি তবলিঘি ইজতিমা'য়। রানা পাকিস্তানি ও পাক চর হওয়ার দৌলতে তবলিঘি জামাত চলাকালীনই যোগাযোগ করে সেখানে উপস্থিত আইএসআই আধিকারিকদের সঙ্গে। সেখানে রানা ছাড়াও কয়েকজনের সঙ্গে ওই আইএসআই আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন।

সূত্রের খবর, ধৃত পাক চর রানা নিজেও উপস্থিত ছিল ওই 'আলামি তবলিঘি ইজতিমা'য়। রানা পাকিস্তানি ও পাক চর হওয়ার দৌলতে তবলিঘি জামাত চলাকালীনই যোগাযোগ করে সেখানে উপস্থিত আইএসআই আধিকারিকদের সঙ্গে। সেখানে রানা ছাড়াও কয়েকজনের সঙ্গে ওই আইএসআই আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। রানা ছাড়াও নেপালের বাসিন্দা আরও যে পাঁচ পাকিস্তানির নাম উঠে এসেছে, সেই কাশিফ, হানিফ চৌধুরি, সোহায়েল, জেডি ও হারুণ সফদার ওই বৈঠকে ছিল বলেই ধারণা গোয়েন্দাদের। সেখানেই ঠিক হয়, নেপালের কোন কোন জায়গায় আরও আইএসআইয়ের ঘাঁটি তৈরি হবে।

নেপালের দক্ষিণ অংশের মাহোত্তারি, রাউতাহাত, পার্সা, কপিলবস্তু, সুনসারি, বাঁকে, বরা অঞ্চলের যে জায়গাগুলি ভারতের সীমান্তের কাছাকাছি, সেখানেই ঘাঁটি তৈরি করে চরবৃত্তির সেল তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ ছাড়াও কাঠমান্ডু ও তার সংলগ্ন কয়েকটি জায়গায়ও ঘাঁটি তৈরির পরিকল্পনা করে আইএসআই। সেখান থেকে ভারতে এসে উত্তরবঙ্গ, কলকাতা-সহ বেশ কয়েক জায়গায় চরবৃত্তির জন্য 'সেল' তৈরিরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাকিস্তানি আইএসআই-এর আধিকারিকের নির্দেশেই রানা ও তার সহযোগীরা ভুয়া পরিচয়ে বিভিন্ন সময়ে কলকাতা-সহ এই রাজ্যে আসে। একই সঙ্গে নেপালে অন্তত ১৫টি সংগঠন নিয়েও আলোচনা হয়। ওই সংগঠনগুলির আড়ালে জঙ্গি কার্যকলাপ চলে বলে অভিযোগ। ওই সংগঠনগুলির সদস্যদেরও কাজে লাগানোর ব্যাপারেও আলোচনা হয় বলে জানিয়েছেন গোয়েন্দারা।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement