shono
Advertisement

সত্যি সে দৃষ্টিহীন? মাধ্যমিক পরীক্ষা চলাকালীন প্রমাণ চাইলেন শিক্ষক

কেন এমন অমানবিক আচরণ? The post সত্যি সে দৃষ্টিহীন? মাধ্যমিক পরীক্ষা চলাকালীন প্রমাণ চাইলেন শিক্ষক appeared first on Sangbad Pratidin.
Posted: 02:34 PM Mar 17, 2018Updated: 02:46 PM Aug 17, 2019

দীপঙ্কর মণ্ডল: মা পড়েন। ছেলে শোনে। অনুভূতি তীব্র। কিন্তু ছেলের জগতে শুধুই অন্ধকার। কারণ সে দৃষ্টিহীন। এবার মাধ্যমিক দিচ্ছে। ছাত্রর নাম অনিরুদ্ধ পাল। সরকারি নিয়মে ‘রাইটার’ পেয়েছে। মধ্যশিক্ষা পর্ষদের অনুমতিপত্রও আছে। এতকিছুর পরও পরীক্ষা চলাকালীন তাকে প্রমাণ করতে হল সে দেখতে পায় না। চূড়ান্ত অমানবিক এই ঘটনায় হতবাক শিক্ষামহল।

Advertisement

[মাকে দাহ করে মাধ্যমিকে ছাত্র, তবু মিলল না বাড়তি সময়]

সাদা কাগজে পিন ফোটানো সাংকেতিক অক্ষরে হাতেখড়ি হয়েছিল। নরেন্দ্রপুরে দৃষ্টিহীনদের স্কুলে পড়াশোনা শুরু করে অনিরুদ্ধ। পারিবারিক কারণে পড়াশোনা থেমে যায়। পরে হালতু কিশলয় শিক্ষা সদনে নবম শ্রেণিতে ভর্তি করা হয় তাকে। যাদবপুর ঋষি অরবিন্দ বিদ্যাপীঠ থেকে এবার মাধ্যমিক দিচ্ছে। প্রথম ভাষা এবং দ্বিতীয় ভাষার পরীক্ষায় বাধা আসেনি। ভূগোল পরীক্ষা চলাকালীন এক শিক্ষক এসে জানায় সে রাইটার নিতে পারবে না। তাকে ব্রেইল লিপিতে পরীক্ষা দিতে হবে। দৃষ্টিহীন ছাত্রর কাকুতি মিনতি কানে তোলেনি ওই শিক্ষক। সে যে দেখতে পায় না তার ডাক্তারি প্রমাণ আনতে বলা হয়। কিন্তু পরীক্ষা চলাকালীন কীভাবে তা সম্ভব? নিজের দাবিতে অনড় থাকে ওই শিক্ষক। পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরে অপেক্ষায় ছিলেন অনিরুদ্ধর বাবা চন্দ্রশেখর পাল। তিনি ‘সংবাদ প্রতিদিন’কে জানিয়েছেন, “বাড়ি থেকে আমার ছেলের প্রতিবন্ধী শংসাপত্র এনে দেখাই। তারপর লেখার অনুমতি মেলে।” ছাত্র যে স্কুল থেকে পরীক্ষা দিচ্ছে তার প্রধান শিক্ষকও বিষয়টি জানেন।

[লক্ষ্য মাধ্যমিক পাশ, তাই চালকের আসনে বসেই পরীক্ষাকেন্দ্রে পরীক্ষার্থী]

রাজ্যের ১১ লক্ষেরও বেশি ছাত্র-ছাত্রী এবার মাধ্যমিক দিচ্ছে। ঋষি অরবিন্দ বিদ্যাপীঠ ছাড়া কোনও কেন্দ্র থেকে শুক্রবার পর্যন্ত অমানবিকতার খবর আসেনি। যাদবপুরের স্কুলটিতে কেন এমন হল তা ভেবে পাচ্ছেন না কেউ। ছাত্রটির ক্ষতি হতে পারে ভেবে বাবা লিখিত অভিযোগ করেননি। কিন্তু ঘটনাটি যে হয়েছে তা জানে পর্ষদ। ওইদিন শিক্ষকের অমানবিক আচরণের খবর পেয়ে পর্ষদের প্রতিনিধিরা এসেছিলেন। তারপরও অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। মাধ্যমিকে প্রতি বছরই দৃষ্টিহীন পড়ুয়া থাকে। চোখে দেখতে না পাওয়া বা অন্য কোনও শারীরিক অসুবিধা থাকলে পর্ষদ সেই ছাত্রকে রাইটার-এর মাধ্যমে পরীক্ষায় বসার অনুমতি দেয়। অনিরুদ্ধর ক্ষেত্রেও একই অনুমতিপত্র ছিল। পর্ষদের শংসাপত্রে পরিষ্কার লেখা ছিল এই ছেলেটি দৃষ্টিহীন। পরীক্ষার্থী এবং রাইটারের নাম ও ছবিও দেওয়া ছিল শংসাপত্রে। তারপরও কেন এমন অমানবিক আচরণ? উত্তর মেলেনি।

[আদালতের মানবিক মুখ, মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষাকেন্দ্রে পাঠালেন বিচারক]

The post সত্যি সে দৃষ্টিহীন? মাধ্যমিক পরীক্ষা চলাকালীন প্রমাণ চাইলেন শিক্ষক appeared first on Sangbad Pratidin.

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

Advertisement
toolbarHome ই পেপার toolbarup মহানগর toolbarvideo শোনো toolbarshorts রোববার