আজই প্রশাসক বসল কলকাতা পুরসভায়। নতুন পদে দায়িত্ব নিলেন পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে। গত শুক্রবার জল্পনা সত্যি করে মেয়র পদে ইস্তফা দেন ফিরহাদ হাকিম। ফলত, ভরা বর্ষার মুখে একপ্রকার অভিভাবকহীন হয়ে পড়ে পুরসভা। তাই নাগরিক পরিষেবা যাতে বিঘ্নিত না হয়, সেই উদ্দেশ্যে তড়িঘড়ি অন্তর্বর্তী প্রশাসক বা পুরসভার 'অভিভাবক' নিয়োগ করল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। একইসঙ্গে রাজ্যপালের নির্দেশনামা অনুযায়ী পুর আইন মেনে মেয়র পারিষদ থেকে কাউন্সিলর, সবার ক্ষমতা লুপ্ত করা হল। যদিও জল্পনা ছিল, পরবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত নাগরিক পরিষেবা মাথায় রেখে কাজ চালিয়ে যাবেন কাউন্সিলররাই।
পালাবদলের পর তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে তৃণমূল। কিছুদিন আগেই ঋতব্রত-পন্থীদের বিদ্রোহে পরিষদীয় দলের রাশ হারিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার দিল্লিতে বিস্তর জল্পনা শেষে সংসদীয় দলের নিয়ন্ত্রণও খুইয়েছেন তিনি। ২০ জন তৃণমূল সাংসদ এনডিএ শিবিরে যোগ দিতে চেয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়েছেন। এবার 'ছোটো লালবাড়ি'ও হাতছাড়া রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর। জানা যাচ্ছে, পুরভোটে পরবর্তী মেয়র নির্বাচিত হওয়া পর্যন্ত কেএমসি চালাবেন প্রশাসক। সামনেই বর্ষার মরশুম। কলকাতার জল-যন্ত্রণা নতুন কিছু নয়। বৃষ্টিতে বিস্তর এলাকা জলমগ্ন হওয়া ছাড়াও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনাও অতীতে ঘটেছে। সঙ্গে রয়েছে জঞ্জাল সাফাইয়ের কাজও।
এই প্রসঙ্গে বিদায়ী বোর্ডের এক মেয়র পারিষদ বলেন, "দুদিন পর বর্ষা। কলকাতায় জল জমবে। জঞ্জাল সাফাইয়ের বিষয় থাকে। নানা ধরনের পরিষেবা সামাল দিতে যে ধরনের নেটওয়ার্ক দরকার, তা এই মুহূর্তে বিজেপির নেই।" একই সঙ্গে প্রতিনিয়ত কাউন্সিলর অফিসে আসেন সাধারণ মানুষ। বিভিন্ন সার্টিফিকেটের প্রয়োজনে। যেমন ইনকাম সার্টিফিকেট, রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট ইত্যাদি। এনিয়ে, বিজেপির এক কাউন্সিলর বলেন, "কলকাতা পুরসভার বিস্তার অনেক। ফলে প্রতিদিন আধার, বাসস্থান, আয়-সহ নানাধরনের সার্টিফিকেট নিতে কলকাতা পুরসভায় আসেন বহু মানুষ। এছাড়া স্কুল-কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রেও কিছু শংসাপত্রের বিষয় থাকেই।" ফলে প্রশ্ন উঠছে, কাউন্সিলরদের অবর্তমানে এই দায়িত্ব সামলাবে কে? আদৌ কি এমন পরিকাঠামো রয়েছে? প্রসঙ্গত, শেষ কলকাতা পুরসভায় ভোট হয়েছিল ২০২১ সালে। অর্থাৎ পুরবোর্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ডিসেম্বরে। ফলে পুর ভোটের এখনও বাকি প্রায় ৬ মাস।
তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে, ফিরহাদ মেয়র পদে ইস্তফা দিতেই কেন পুরবোর্ড ভেঙে দেওয়া হবে না, জানতে চেয়ে নোটিস পাঠায় নবান্ন। তিনদিনের মধ্যে জবাব তলব করা হয়। আজ সোমবার শেষ ডেডলাইন। এই মূহুর্তে কলকাতা পুরসভায় তৃণমূলের ১৩৫ জন কাউন্সিলর রয়েছেন (দুজন মৃত)। ডামাডোলের মাঝেই রবিবার বাইপাসের ধারে তৃণমূল ভবনে বৈঠক ডেকেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে তা বাতিলও হয়ে যায়। তারপরই দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেন মমতা। মালা রায় সই সংগ্রহের চেষ্টা করেন। জানা যায়, মেয়র বাছতে সই সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হলে তাতে রাজি হননি অধিকাংশই। প্রস্তাবে সই করেন মাত্র ৩২ জন। ফলত, এদিন সেই চিঠি জমা পড়েনি। তাই প্রশাসক নিয়োগ করে নাগরিক পরিষেবা বহাল রাখার পথেই হাঁটল নবান্ন।
