ভোটের আগেই আর জি করে লিফটে মৃত্যু (RG Kar Lift Incident) ঘটনায় কেন্দ্রীয় বাহিনীকে তলব করল লালবাজার। লিফট ও দেওয়ালের মধ্যে পিষে নাগেরবাজারের অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর ঘটনার সময় আর জি করে সিআইএসএফের যে জওয়ানরা উপস্থিত ছিলেন, তাঁদেরই লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগ তলব করেছে বলে সূত্রের খবর।
এই ব্যাপারে লালবাজারের পক্ষে সিআইএসএফ কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এবার সিআইএসএফের উত্তরের অপেক্ষায় লালবাজারের গোয়েন্দারা। তবে এই ঘটনায় অরূপের বাবার অভিযোগপত্রে পুলিশের নাম উল্লেখ করা না হলেও ইতিমধ্যেই আর জি করের ফাঁড়ির ডিউটিতে থাকা আটজন পুলিশকর্মী ও আধিকারিককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। ঘটনার সময় তাঁরা কী করছিলেন ও তাঁদের ভূমিকা কী ছিল, লালবাজারের গোয়েন্দারা তা পুলিশকর্মীদের কাছ থেকে জানার চেষ্টা করেন। লিফট বিপর্যয়ের ঘটনায় ধৃত তিন লিফটম্যানকে শুক্রবার শিয়ালদহ আদালতে তোলা হয়। তিনজন লিফটম্যানকেই ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন বিচারক।
পুলিশের সূত্র জানিয়েছে, মৃত যুবক অরূপের বাবা অভিযোগপত্রে জানিয়েছিলেন, তিনি লিফটের ভিতর থেকে তাঁর ছেলে ও পুত্রবধূর চিৎকার শুনে কর্তব্যরত সিআইএসএফ জওয়ানদের বেসমেন্টের তালা ভেঙে ঢুকে তাঁর পরিবারের লোকেদের উদ্ধার করার জন্য অনুরোধ জানান। তাঁর বক্তব্য ছিল, যেহেতু কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের হাতে রাইফেল ও পায়ে বুট ছিল, তাই তাঁদের পক্ষে বেসমেন্টের তালা ভাঙা সহজ। কিন্তু বহু অনুনয়ের পরও কেন্দ্রীয় বাহিনী তথা সিআইএসএফ জওয়ানদের কেউই এগিয়ে আসেননি। জওয়ানরা বেসমেন্টের তালা ভাঙলে তাঁর ছেলে হয়তো প্রাণে বাঁচতেন বলে তাঁর দাবি। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের ডিউটি আর জি করের বাইরের অংশে থাকলেও আপদকালীন পরিস্থিতিতে তাঁরা ভিতরে আলতে পারেন কি না, তা পুলিশ জানার চেষ্টা করছে। এই ব্যাপারে যে জওয়ানরা ডিউটিতে ছিলেন ও তাঁদের যে আধিকারিকরাও রয়েছেন, তাঁদের বক্তব্য জানার প্রয়োজন বলে দাবি গোয়েন্দাদের। সেই কারণেই লালবাজারের পক্ষে সিআইএসএফকে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
