ভোট ময়দানে প্রার্থী হওয়ার সঙ্গে ধনসম্পত্তি কিংবা শিক্ষাগত যোগ্যতার কতটা সম্পর্ক? আপাতভাবে মনে হতে পারে, রাজনীতি মানে তো জনতার সেবা করা, তার জন্য আবার টাকাপয়সা লাগবে কেন? কিন্তু জাতীয় নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, ন্যূনতম সম্পদ থাকতেই হবে প্রার্থীর। শিক্ষাগত যোগ্যতার অবশ্য কোনও মান নেই। তবে নিজ নিজ প্রার্থীর সম্পত্তি বা যোগ্যতা নিয়ে কৌতুহল থাকে সকলেরই। মনোনয়ন পেশের পর হলফনামায় সেই তথ্য পাওয়া যায়। ছাব্বিশের ভোটে রাসবিহারী কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন দলের অন্যতম সুশিক্ষিত, তাত্ত্বিক নেতা বলে পরিচিত স্বপন দাশগুপ্ত। বৃহস্পতিবার তিনি মনোনয়ন পেশ করেছেন। আর তারপরই তাঁর খুঁটিনাটি নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। জানেন কত সম্পত্তির অধিকারী বিজেপি প্রার্থী? তাঁর শিক্ষাই বা কতদূর?
নির্বাচনী হলফনামা থেকে জানা যাচ্ছে, স্বপন দাশগুপ্ত উচ্চশিক্ষিত। লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গবেষণা করেছেন। রয়েছে পিএইচডি ডিগ্রি। রাজনীতিবিদ হলেও পেশা হিসেবে প্রথমে বেছে নিয়েছিলেন লেখালেখি। এখনও রাজনীতির ফাঁকে সেই কাজই স্বপনবাবুর আয়ের মূল উৎস। নির্বাচনী হলফনামা থেকে তাঁর সম্পত্তির যা হিসেব পাওয়া যাচ্ছে, তা কমবেশি আড়াই কোটি টাকা। কী কী রয়েছে তাঁর? দেখে নিন -
অস্থাবর সম্পত্তি
হাতে নগদ ১০ হাজার টাকা
ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ৫
গাড়ি ৩ (৪০ লক্ষ টাকা)
সোনার গয়না ৫০ গ্রাম (৭ লক্ষ ৩৫ হাজার)
আসবাবপত্র ২০ লক্ষ
পেন্টিং ৫০ লক্ষ
কিউরিও ১০ লক্ষ
স্ট্যাম্প ১০ লক্ষ
ঋণ নেই
মোট ২ কোটি ৫৩ লক্ষ ৪৯ হাজার
এ তো গেল অস্থাবর সম্পত্তি। স্থাবর সম্পত্তি বলতে স্বপন দাশগুপ্তর দিল্লিতে একটি বাসভবন রয়েছে, যার অর্ধেক মালিকানা তাঁর, বাকি অর্ধেক তাঁর স্ত্রী রেশমি দাশগুপ্তর। এই বাড়ির মূল্য ৫ কোটি টাকা। কোনও চাষের জমি নেই। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, স্বপন দাশগুপ্তর বিরুদ্ধে একটিও মামলা নেই। নেই ঋণও।
স্ত্রী রেশমি দাশগুপ্তও লেখিকা। তাঁর হাতে নগদ মাত্র ৫ হাজার টাকা। যে পরিমাণ সোনার গয়না আছে, তার বাজারমূল্য ৫১ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা। তাঁর মোট অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ৫৪ লক্ষ ৫১ হাজার ৩৭৪ টাকা। আর স্থাবর সম্পত্তি বলতে দিল্লির একটি বাড়ি, যার অর্ধেক মালিকানা রেশমি দাশগুপ্তর। চাষের জমি নেই।
ভোট ময়দানে স্বপন দাশগুপ্ত নবীন নন। ২০১৬ সালে বিজেপির হয়ে রাজ্যসভার সাংসদ হন। তারপর ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে তাঁকে তারকেশ্বর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করেছিল গেরুয়া শিবির। কিন্তু জয়ের মুখ দেখতে পারেননি। আসন্ন নির্বাচনে রাসবিহারী কেন্দ্রে স্বপন দাশগুপ্তর মূল প্রতিদ্বন্দ্বী কলকাতা পুরসভার মেয়র পারিষদ তথা তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিস কুমার। ফলাফল স্পষ্ট হবে আগামী ৪ মে।
