shono
Advertisement
RG Kar Lift Incident

লিফট বিপর্যয়ের দিন মদ্যপ অবস্থায় ডিউটি করছিলেন ৩ লিফটম্যানই! আর জি কর কাণ্ডে নয়া তথ্য

বাইরে থেকে আকণ্ঠ মদ‌্যপান করে আর জি করে ডিউটি করতে এসেছিল তারা। তাই ভোররাতে যখন নাগেরবাজারের অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর স্ত্রী ও পুত্রকে নিয়ে ট্রমা কেয়ারের ২ নম্বর লিফটে বিপর্যয়ের মুখে, তখন মদ‌্যপ অবস্থায় থাকা ওই লিফটম‌্যানরা বুঝতেই পারেনি কী করতে হবে।
Published By: Tiyasha SarkarPosted: 09:19 AM Mar 27, 2026Updated: 12:59 PM Mar 27, 2026

আর জি করে লিফট বিপর্যয়ে (RG Kar Lift Incident) মৃত্যুর ঘটনায় ধৃত তিন লিফটম‌্যানই ছিলেন মদ‌্যপ। বাইরে থেকে আকণ্ঠ মদ‌্যপান করে আর জি করে ডিউটি করতে এসেছিল তারা। তাই ভোররাতে যখন নাগেরবাজারের অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর স্ত্রী ও পুত্রকে নিয়ে ট্রমা কেয়ারের ২ নম্বর লিফটে বিপর্যয়ের মুখে, তখন মদ‌্যপ অবস্থায় থাকা ওই লিফটম‌্যানরা বুঝতেই পারেনি কী করতে হবে। এমনকী, তালা ভাঙলেই যে সহজে বেসমেন্টে পৌঁছিয়ে অনেক আগেই তিনজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হত, তা যে ওই মদ‌্যপ লিফটম‌্যানদের মাথায় আসেনি। অনিচ্ছাকৃত খুনের এই ঘটনায় লালবাজারের গোয়েন্দাদের তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল‌্যকর তথ‌্য। এমনকী, গোয়েন্দাদের টানা জেরার মুখে লিফটম‌্যানরা তা স্বীকারও করেছে বলে সূত্রের খবর। তারা নাকি জেরার মুখে পুলিশকে এ-ও জানিয়েছে যে, প্রায়শই তারা ও আর জি করের অন‌্য লিফটম‌্যানরাও মদ‌্যপান করেই ডিউটি করতে আসে।

Advertisement

দু’জন অন্তত স্বীকার করেছে যে, তারা এতটাই মদ‌্যপান করেছিল যে, আর ওঠার ক্ষমতা ছিল না তাদের। ওই অবস্থায় তারা ঘুমিয়ে পড়েছিল। বাকি একজন সাততলার ঘরে বসে মোবাইলে গান শুনছিল। সেই কারণেই যখন অরূপ বন্দ্যোপাধ‌্যায়ের বাবা অমল বন্দ্যোপাধ‌্যায় তাঁর ছেলে, পুত্রবধূর চিৎকার শুনে তাঁদের বাঁচানোর জন‌্য কাতর আর্তি করছেন, তখন তারা কিছু শুনতেই পারেনি। বরং ঘুম জড়ানো অবস্থায় ‘এখন কিছু করা যাবে না’ বলে জানিয়ে দেয়।

পুলিশ জানিয়েছে, ট্রমা কেয়ারের একেকটি লিফটের দায়িত্বে ছিল একেকজন লিফটম‌্যান। রাত দশটা নাগাদ তাদের ডিউটি শুরুর কথা। গোয়েন্দারা জেনেছেন, গত ১৯ মার্চ, ঘটনার দিন সন্ধ‌্যার পর থেকেই তারা বাইরের ঠেকে বসে মদ‌্যপান করে। যদিও পুলিশের কাছে খবর, তারা একসঙ্গে মদ‌্যপান করেনি। আলাদা আলাদাভাবেই নিজেদের মতো মদ‌্যপান করে। মদ‌্যপ অবস্থায় সেদিন রাত দশটা নাগাদ তিন লিফটম‌্যান প্রবেশ করে আর জি করে। তারা খাতায় কলমে যে যার লিফটের দায়িত্ব নেয়। গোয়েন্দারা জেনেছেন, রাত বারোটা পর্যন্ত তারা লিফটের আশপাশেই ছিল। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনার তদন্তে গোয়েন্দা পুলিশ আর জি করের প্রায় ৭০টি সিসিটিভির ফুটেজ খতিয়ে দেখছে। একাধিক ফুটেজে রাত বারোটা পর্যন্ত তাদের লিফটের ভিতর না থেকে বাইরে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়। রাত বারোটার পর থেকে সিসিটিভির ফুটেজেও কোনও লিফটম‌্যানকে লিফটের ধারেকাছে দেখা যায়নি।

পুলিশের জেরার মুখে তাদের মধ্যে দু’জন অন্তত স্বীকার করেছে যে, তারা এতটাই মদ‌্যপান করেছিল যে, আর ওঠার ক্ষমতা ছিল না তাদের। ওই অবস্থায় তারা ঘুমিয়ে পড়েছিল। বাকি একজন সাততলার ঘরে বসে মোবাইলে গান শুনছিল। সেই কারণেই যখন অরূপ বন্দ্যোপাধ‌্যায়ের বাবা অমল বন্দ্যোপাধ‌্যায় তাঁর ছেলে, পুত্রবধূর চিৎকার শুনে তাঁদের বাঁচানোর জন‌্য কাতর আর্তি করছেন, তখন তারা কিছু শুনতেই পারেনি। বরং ঘুম জড়ানো অবস্থায় ‘এখন কিছু করা যাবে না’ বলে জানিয়ে দেয়। এই তিনজন লিফটম‌্যানই বাইরে কোথায় কোথায় গিয়ে মদ‌্যপান করেছিল, এবার তা জানার চেষ্টা করছেন লালবাজারের গোয়েন্দারা। সেই জায়গাগুলিতে গিয়ে প্রমাণ খোঁজার চেষ্টা করছেন তঁারা। রাতে তারা আর জি করে কোথায় কোথায় ছিল, মোবাইলের সূত্র ধরে সেই তথ‌্যও জানার চেষ্টা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement