রাজ্যের ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-এর অতিরিক্ত তালিকাতেও নাম বাদ কলকাতা হাই কোর্টের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শহিদুল্লাহ মুন্সির। তাঁর স্ত্রী ও দুই ছেলের নামও বিচারাধীন। কলকাতার এন্টালি কেন্দ্রের ভোটার তিনি। কর্মজীবনে বহু মানুষের বিচার দিয়েছেন তিনি, শুনিয়েছেন রায়। সেই মানুষটির নাম বাদ চলে যাওয়ায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে কোর্টপাড়ায়। এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টের নিযুক্ত ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। কিন্তু কীভাবে এই প্রক্রিয়ায় এগোতে হবে তা নিয়েও সংশয়ে রয়েছেন তিনি।
এসআইআরের প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। আর সেই তালিকা থেকে বাদের খাতায় খোদ অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মুন্সী। কলকাতা হাই কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শইদুল্লা মুন্সির নাম ছিল বিবেচনাধীন ভোটার তালিকায়। সেখান থেকে সরাসরি 'ডিলিট'। যোগাযোগ করা হলে তিনি সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটালকে জানিয়েছেন, তাঁকে শুনানিতে ডাকলে তিনি পাসপোর্ট জমা দেন। আধার কার্ড, প্যান কার্ড-সহ যাবতীয় ডকুমেন্ট জমা দিতে চাইলেও তা নেওয়া হয়নি। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির পরিচয় পেয়ে তাঁকে আশ্বাসও দেওয়া হয়। কিন্তু প্রথম তালিকায় গোটা পরিবারকে 'আন্ডার অ্যাডজুডিকেশনে' পাঠানো হয়। মুন্সি জানান, সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় তাঁর নাম বাদ গিয়েছে। তাঁর স্ত্রী ও ছেলের নামও প্রকাশিত হয়নি৷ আপাতত ট্রাইব্যুনালে বিচারের অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি।
কিন্তু এই ট্রাইবুনালের আবেদন জানানোর পদ্ধতি নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, "এই পরিস্থিতিতে ট্রাইব্যুনালে যাওয়া ও আপিল করা ছাড়া আর কোনও উপায় নেই। কিন্তু ট্রাইব্যুনালে এসওপি কীভাবে জানানো হবে সেটা নিশ্চিত নয়, ট্রাইব্যুনালে কত দিনে আবেদন করা যাবে, কত দিনে তা নিষ্পত্তি হবে তাও বলা নেই। কীভাবে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে হবে তারও গাইডলাইন দেওয়া নেই। কোনও গ্রাউন্ডে নাম বাদ চলে গেলে, সেই গ্রাউন্ডে আপিল ফাইল হবে তাও বলা নেই।" তার সংশয়, "আমার মতো হাই কোর্টের বিচারপতিকে যদি এই নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয় তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে!"
