অবৈধ নির্মাণের ক্ষেত্রে 'জিরো টলারেন্স' নীতি বর্তমান শুভেন্দু সরকারের। এই পরিস্থিতিতে তাই আঁতসকাচের নিচে বেলেঘাটার (Beleghata) তৃণমূল নেতা তথা প্রোমোটার রাজু নস্কর। সোমবার তার নির্মীয়মাণ বহুতলেই চলল বুলডোজার। আর তারই মাঝে ফ্ল্যাটের ক্রেতাদের রোষানলে রাজু শাগরেদ। তাকে রাস্তাতেই চড়, থাপ্পড় মারা যায়। পরে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী পরিস্থিতি সামাল দেয়।
বেলেঘাটার ৩৭ নম্বর বারোয়ারিতলা রোড এবং ১ ই ইস্ট কুলিয়া রোডের ওই দুটি বহুতলে মোট ১৬টি ফ্ল্যাট রয়েছে। দু'টি বেআইনিভাবে তৈরি। তাই ভাঙার নোটিস দিয়েছে পুরসভা। ইস্ট কুলিয়া রোডের বহুতলটি ইতিমধ্যে বুলডোজার চালিয়ে একাংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। এই খবর পাওয়ামাত্রই দৌড়ে যান ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা। সেই সময় স্কুটিতে চড়ে যাচ্ছিলেন রাজুর শাগরেদ। তাঁকে ঘিরে ধরেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তর্কাতর্কি বাঁধে। মারধরও করা হয় বলে অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, যাকে মারধর করা হয়েছে তিনি আসলে দালাল। রাজু নস্করের প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে তার বিরুদ্ধে এলাকাবাসীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। সে কারণেই মার খান ওই ব্যক্তি।
বলে রাখা ভালো, গত ফেব্রুয়ারি মাসে বেলেঘাটার (Beleghata) এক বাসিন্দাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে মারধরের অভিযোগ ওঠে। সেই সময় রাজুকে গ্রেপ্তার করা হয়। স্থানীয় সূত্রে খবর, সেই সময় রাজু নস্করের এই ফ্ল্যাটগুলি নিয়ে তৃণমূল সরকারের আমলে আপত্তিও ওঠে। তবে সেসবে নাকি আমলই দেননি রাজু নস্কর। পরিবর্তে ফ্ল্যাটের জন্য যাঁরা টাকা দিয়ে রেখেছিলেন তাঁদের আশ্বাস দেন কোনও সমস্যা হবে না। সময়মতো ফ্ল্যাট হস্তান্তরের কাজ হয়ে যাবে বলেই আশ্বাসও দিয়েছিলেন। অথচ সরকারের পালাবদলের পর থেকেই রাজু 'গায়েব'। যাঁরা ফ্ল্য়াট কিনেছেন, রাজু নস্করের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তাঁরা। অভিযোগ, বেআইনি জমির উপর যে বহুতল নির্মাণ করা হয়েছে, তা আগে জানানো হয়নি। বরং সমস্ত নথিপত্র রয়েছে বলেই জানানো হয়। তবে এখনও পর্যন্ত বিল্ডিং প্ল্যান পাননি তাঁরা। এগ্রিমেন্ট পেপারও পাননি। অথচ তাঁদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে নেওয়া হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বারবার রাজু নস্করের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে রাজুর অফিস তালাবন্ধ রয়েছে।
