মানবশিশুর শরীরে ল্যাজ! শুনতে অবাক লাগলেই এটাই সত্যি। কলকাতার এসএসকেএমে সফল অস্ত্রোপচারে ১৩ বছরের কিশোরের শরীর থেকে আলাদা করা হল সেই ল্যাজ। চিকিৎসার ভাষায় যাকে বলা হয় সিউডো টেইল। পরিসংখ্যান বলছে, মানবদেহে এই ধরনের অতিরিক্ত অঙ্গ বা ল্যাজ দু-একটি ক্ষেত্রে দেখা গেলেও সকলে অপারেশন করে তা বাদ দেননি। এখনও পর্যন্ত পৃথিবীতে যে কটি অস্ত্রোপচার হয়েছে, তার মধ্যে এটিই শরীর থেকে বাদ যাওয়া সব থেকে দীর্ঘ ল্যাজ।
মানব শরীরে ল্যাজ দেখা গিয়েছে আগেও। চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুযায়ী এই ল্যাজ হয় দুধরনের। একটি হল ট্রু হিউম্যান টেইল। অন্যটি সিউডো টেইল। জানা গিয়েছে, বছর তেরোর শিশুর লাম্বো-সাক্রাল রিজিয়নে দেখা যায় ২৩ সেন্টিমিটারের সিউডো টেইল। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে নিয়ে এসএসকেএমে গেলে চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে দেখেন, ছোট শিশুর শরীরে রয়েছে সিউডো টেইল অর্থাৎ চর্বির টিউমার। এরপরই এমআরআই করে দেখা যায়, এই ল্যাজটি মেরুদন্ডের সঙ্গে যুক্ত কি না। তারপরই অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকরা। এসএসকেএমের পেডিয়াট্রিক সার্জারি বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর চিকিৎসক সব্যসাচী বক্সির নেতৃত্বে অপারেশন হয়। চিকিৎসক জানিয়েছেন, "অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে। পৃথিবীতে অপারেশন করে বাদ দেওয়া ল্যাজের মধ্যে এটিই দীর্ঘতম।"
উল্লেখ্য, এর আগে মহারাষ্ট্রে এক যুবকের শরীরে মিলেছিল ল্যাজ। যার দৈর্ঘ্য ছিল ১৮ সেন্টিমিটার। নাগপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে অস্ত্রোপচার হয়েছিল তাঁর। এতদিন পর্যন্ত সেটাই ছিল অস্ত্রোপচার হওয়া বিশ্বের দীর্ঘতম ল্যাজ। এবার সেই স্থান দখল করে নিল এই খুদে। তবে পরিসংখ্যান অনুযায়ী পৃথিবীর মধ্যে দীর্ঘতম ল্যাজ রয়েছে চন্দ্র ওরাও নামে এক যুবকের শরীরে। যার দৈর্ঘ্য ৩৩ সেন্টিমিটার। তবে তিনি অস্ত্রোপচার করাননি।
