এসআইআর আবহে মুখ্যমন্ত্রীর দিল্লিযাত্রার আগে জাতীয় স্তরে জোট-ঐক্য আরও একবার ঝালিয়ে নেওয়ার সুযোগ। মঙ্গলবার দুপুরে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছেন সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব (Akhilesh Yadav)। পারিবারিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সোমবারই সস্ত্রীক কলকাতায় এসেছেন অখিলেশ। বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এসআইআর, আইপ্যাক অফিসে ইডি হানা-সহ বঙ্গে সাম্প্রতিক ঘটে যাওয়া বেশ কয়েকটি ইস্যুতে মুখ খুলেছিলেন তিনি। বলেছিলেন, ''বাংলায় বিজেপির হার সময়ের অপেক্ষা।'' ছাব্বিশে ফের 'দিদি'কেই বাংলার মসনদে দেখতে চেয়ে এবার তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন ইন্ডিয়া জোটের অন্যতম শরিক সমাজবাদীর পার্টির অখিলেশ যাদব। দুপুর ১টা নাগাদ নবান্নে মমতা-অখিলেশের বৈঠক হওয়ার কথা। পরে যৌথভাবে তাঁরা সাংবাদিকদের মুখোমুখি হতে পারেন।
গত লোকসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে জাতীয় স্তরে বিরোধীদের ঐক্যবদ্ধ করার কাজ শুরু হয়েছিল। তৈরি হয়েছিল ইন্ডিয়া জোট। তবে বাংলার 'দিদি'র সঙ্গে তারও অনেক আগে থেকে একসময় উত্তরপ্রদেশ শাসন করা যাদব পরিবারের সুসম্পর্ক। সেই মুলায়ম সিংয়ের সময় থেকেই। মোদি সরকারের আমলে সেই বিরোধী ঐক্য আরও দৃঢ় হয়েছে। এই মুহূর্তে বাংলার মতো উত্তরপ্রদেশেও চলছে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনের কাজ। বিরোধীদের অভিযোগ, নানা ছুতোয় কৌশলে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দিতে বদ্ধপরিকর কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন সরকার এবং সেই কাজই করানো হচ্ছে নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে। এনিয়ে সবচেয়ে বেশি সরব বাংলার শাসকদল তৃণমূল।
মঙ্গলবার দুপুরে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছেন সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব।
সেই আবহে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চলতি সপ্তাহেই দিল্লি যাচ্ছেন বলে খবর। তার আগে, সোমবার শহরে এসেছেন অখিলেশ যাদব। ছাব্বিশের নির্বাচনে 'দিদি'র প্রতি প্রবল সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেছেন, ''পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির পরাজয় এখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র। তাঁর কথায়, বিজেপি নিজেই জানে যে তারা এই রাজ্যে জিততে পারবে না। তাই এখন তাদের একমাত্র লক্ষ্য, সম্মানের সঙ্গে হার স্বীকার করা।'' এরপরই মঙ্গলবার সকালে খবর মেলে, তিনি নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক করতে চলেছেন। বৈঠকে জাতীয় স্তরে বিরোধী ঐক্যে আরও শান দেওয়ার বিষয়টিই মুখ্য বলে মনে করা হচ্ছে।
