আত্মনির্ভরতার লক্ষ্যে নির্বাচনের আগে জরুরি পদক্ষেপ করল বাংলাদেশের ইউনুস প্রশাসন। ভারতের কাছে ধাক্কা খেয়ে বাতিল করা অর্থনৈতিক অঞ্চলে এবার নিজেদের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করতে চলেছে প্রতিবেশী দেশ। চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে, যেখানে ভারতের অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ার কথা ছিল, তা বাতিল হওয়ার পর ইউনুস প্রশাসনের সিদ্ধান্ত, সেখানেই গড়ে তোলা হবে বাংলাদেশের সামরিক অর্থনৈতিক অঞ্চল বা Defence Economic Zone. সোমবার বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের গভর্নিং বোর্ডের সভায় এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসের সঙ্গে বৈঠকের পর এক সাংবাদিক সম্মেলনে একথা জানিয়েছেন গভর্নিং বোর্ডের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী।
সাংবাদিক বৈঠকে আশিক চৌধুরী বলেন, ''সামরিক শিল্পে অস্ত্র ও অন্যান্য উপকরণ উৎপাদন নিয়ে অনেকদিন ধরে আলোচনা চলছে। বিশ্বব্যাপী এর চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশের নিজেদেরও কিছু সক্ষমতা থাকা জরুরি। এনিয়ে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, বেজা, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় মিলে কাজ করছিল। অবশেষে এই প্রস্তাবটি গভর্নিং বোর্ডে অনুমোদন করা হয়।''
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে, যেখানে ভারতের অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ার কথা ছিল, তা বাতিল হওয়ার পর ইউনুস প্রশাসনের সিদ্ধান্ত, সেখানেই গড়ে তোলা হবে বাংলাদেশের সামরিক অর্থনৈতিক অঞ্চল বা Defence Economic Zone.
কোথায় তৈরি হবে বাংলাদেশের সামরিক অর্থনৈতিক জোন? এ প্রশ্নের জবাবে আশিক চৌধুরী জানিয়েছেন, ‘‘চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে অবস্থিত জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের (NSEZ) অভ্যন্তরে প্রায় ৮৫০ একর খালি জায়গাকে আমরা চিহ্নিত করেছি। জায়গাটি গত বছরের জুন মাস পর্যন্ত ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে প্রস্তাবিত ছিল, যা পরে বাতিল হয়ে গেছে। সেটিকেই এখন সামরিক অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।’’
প্রতিবেশী চিন, পাকিস্তানের উপর সামরিকভাবে যথেষ্ট নির্ভরশীল বাংলাদেশ। এতদিনে এ বিষয়ে স্বনির্ভরতার কথা ভাবছে ইউনুস প্রশাসন। সোমবার বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের তরফে আসিফ চৌধুরী আরও জানিয়েছেন যে বাংলাদেশের সঙ্গে যেসব দেশের কূটনৈতিক স্তরে সুসম্পর্ক রয়েছে, তাদের সঙ্গে আলোচনাসাপেক্ষে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ বাংলাদেশ সামরিক অস্ত্র তৈরিতে স্বনির্ভর হলে সেসব দেশের সঙ্গেও নিবিড় বাণিজ্যিক চুক্তি হতে পারে বলে ইঙ্গিত তাঁর কথায়। ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের মত, চিন-পাকিস্তানের মদতেই ভারতের বাতিল করা অর্থনৈতিক অঞ্চলে এই সামরিক ভাণ্ডার তৈরির কাজ শুরু করছে বাংলাদেশ।
