ভোটকুশলী থেকে ভোটজয়ী। প্রশান্ত কিশোরের রাজনৈতিক কেরিয়ার নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। একসময়ে বিজেপি-সহ একাধিক রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনে জয়ের রাস্তা সাজিয়ে দিয়েছিলেন। ২০২৬ সালে নিজেই জয়ী হয়ে পিকে বোঝালেন, তিনি স্রেফ 'কিংমেকার' নন, 'কিং'ও বটে! বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীনের ছেড়ে যাওয়া আসন বিহারের বাঁকিপুর থেকে উপনির্বাচনে জন সুরাজ পার্টির প্রতিষ্ঠাতার জয় বিজেপি বিরোধিতায় বড় সাফল্য নিশ্চিতভাবে। বঙ্গে প্রশান্ত কিশোরের বেশি পরিচিতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসের ভোটকুশলী হিসেবে। পিকে-র স্ট্র্যাটেজিতে একাধিক কঠিন নির্বাচন জিতেছেন মমতা। অথচ আজ পিকে-র সাফল্যে একেবারে চুপ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়! অভিনন্দন জানানো দূর, এনিয়ে একটি প্রতিক্রিয়া দেননি কেউ। কালীঘাটের এই 'হিরন্ময় নীরবতা'র কারণ নিয়ে ফিসফাস শুরু হয়েছে।
২০১৯ সাল থেকে ২০২৪ পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের ভোটকুশলী হিসেবে কাজ করেছিলেন প্রশান্ত কিশোর ও তাঁর সংস্থা আইপ্যাক। বলা হয়, অতি কঠিন পরিস্থিতিতেও তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভোটব্যাঙ্ক অটুট রাখতে নানা গুরুত্বপূর্ণ শলা-পরামর্শ দিয়েছিলেন পিকে। ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটেও আইপ্যাক কাজ করেছে তৃণমূলের হয়ে কিন্তু ততদিনে মালিকানা বদলে গিয়েছিল। পিকে আর ছিলেন না সংস্থায়। ফলাফল কী হয়েছে, সকলেই জানেন।
মমতার এই নীরবতার নেপথ্যে কেউ কেউ অন্য রাজনৈতিক কৌশলও দেখছেন। তাঁদের মত, পিকে বা আইপ্যাক প্রসঙ্গ আর তুলতে চাইছে না কালীঘাট তৃণমূল। তাতে মামলার প্রসঙ্গ ফিরতে পারে এবং ফের নয়া বিতর্ক হতে পারে মমতার ভূমিকা নিয়েই। আরেক মহলের বক্তব্য, পিকে'র এই জয় বিজেপির ধাক্কা বলে মনে হলেও আসলে ইন্ডিয়া জোটই চাপে পড়ে গিয়েছে। জোটের সক্রিয় শরিক হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি পিকে'কে শুভেচ্ছা জানান, তাহলে ইন্ডিয়া জোট তা মোটেই ভালোভাবে নেবে না।
যদিও তৃণমূল নেত্রী সম্পর্কে পিকে'র মনোভাব অতি উচ্চ। ২০২১ সাল নাগাদ ঘনিষ্ঠ মহলে পিকে'র বক্তব্য ছিল, ‘‘মমতাদিকে আমায় কিছু শেখাতে হবে বলে মনে করো? উনি এমনি এমনি এই জায়গায় পৌঁছেছেন? উনি আন্দোলনের নেত্রী। কিছু কিছু জায়গায় আমি পরামর্শ দিয়েছি। দলের ছোটখাটো ভুলচুক কিছু হলে তা ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে।'' কিন্তু প্রশান্ত কিশোরকে নিয়ে দলের তৎকালীন সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মত ছিল, 'ওভাররেটেড'। বছর খানেক আগে তিনি এই মন্তব্য করেছিলেন। এই কারণেই কি বাঁকিপুর জয়ের পরও প্রশান্ত কিশোরকে শুভেচ্ছা জানানোর সৌজন্যও দেখালেন না মমতা? প্রশ্ন উঠছে।
আবার মমতার এই নীরবতার নেপথ্যে কেউ কেউ অন্য রাজনৈতিক কৌশলও দেখছেন। তাঁদের মত, পিকে বা আইপ্যাক প্রসঙ্গ আর তুলতে চাইছে না কালীঘাট তৃণমূল। তাতে মামলার প্রসঙ্গ ফিরতে পারে এবং ফের নয়া বিতর্ক হতে পারে মমতার ভূমিকা নিয়েই। আরেক মহলের বক্তব্য, পিকে'র এই জয় বিজেপির ধাক্কা বলে মনে হলেও আসলে ইন্ডিয়া জোটই চাপে পড়ে গিয়েছে। ইন্ডিয়া জোটকে আটকাতে বাঁকিপুর থেকে নবগঠিত জন সুরাজ পার্টির প্রশান্ত কিশোরকে জিততে সাহায্য করেনি তো বিজেপি? যাতে পুরনো রাজনৈতিক শত্রুদের দমানো সহজ হয়? সেক্ষেত্রে জোটের সক্রিয় শরিক হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি পিকে'কে শুভেচ্ছা জানান, তাহলে ইন্ডিয়া জোট তা মোটেই ভালোভাবে নেবে না।
