গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি ও জ্বালানি সংকটে 'অরাজক' পরিস্থিতিতে কেন্দ্রকে দায়ী করে পথে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ১৬ মার্চ সোমবার রাজপথে মহামিছিলের ডাক তৃণমূল নেত্রীর। বিকেল ৪টের সময় মিছিল শুরু হবে কলেজ স্কোয়ার থেকে। শেষ হবে ডোরিনা ক্রসিংয়ে।
কেন্দ্রের গাফিলতির জেরেই এই অবস্থা। মমতার অভিযোগ, যুদ্ধ শুরু হয়েছে বেশ কিছুদিন আগে। তারপরও কেন্দ্র সরকার কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। নিশ্চিন্তে বসেছিল। গ্যাস সমস্ত মানুষের প্রয়োজনীয় দ্রব্য। যে সংকট আজ তৈরি হয়েছে তার জন্য সম্পূর্ণভাবে দায়ী কেন্দ্রীয় সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর আরও অভিযোগ, কোনও প্রস্তুতি বা বিকল্প পরিকল্পনা ছাড়াই গ্যাস বুকিংয়ের ক্ষেত্রে ২৫ দিনের নতুন নিয়ম চালু করেছে কেন্দ্র। সেই সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও উদ্বেগ আরও বেড়েছে। তারই প্রতিবাদে পথে নামছেন তিনি।
পশ্চিম এশিয়ার ও আরব দুনিয়ার যুদ্ধ দ্বিতীয় সপ্তাহে পড়েছে। সময় যত বাড়ছে, ততই তার প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে ভারত-সহ আশপাশের দেশগুলিতে। এতে সবচেয়ে সমস্যা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেল সরবরাহে। কারণ আরব দুনিয়া থেকে গোটা বিশ্বে সিংহভাগ তেল সরবরাহ হয় গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে। যুদ্ধের জেরে বন্ধ সেই হরমুজ প্রণালী। অর্থাৎ জ্বালানি সরবরাহের রাস্তাই পুরোপুরি বন্ধ। আর তাতে সব দেশে জ্বালানির সংকট তৈরি হচ্ছে। এর নেপথ্যে অবশ্য কেন্দ্রকে দায়ী করেছেন মমতা। কেন আগে থেকে সব দিক বিবেচনা না করে কেন্দ্র ২৫ দিনের আগে বুকিং করা যাবে না বলে ঘোষণা করল? দেশে কত গ্যাসের ভাণ্ডার মজুত রয়েছে? তা কেন জানানো হল না? এসব প্রশ্ন তুলে পথে নামছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা।
এদিকে আজ, বৃহস্পতিবার তিনি জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের নিয়ে বৈঠকে বসবেন। রান্নার গ্যাস নিয়ে যে আচমকা সমস্যা তৈরি হয়েছে, তা দ্রুত সমাধান করতে ডিলারদের রাজ্যের মজুত গ্যাস বাইরে না পাঠানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে তিনি জানতে চেয়েছেন দেশে গ্যাস ভাণ্ডারে কত গ্যাস রয়েছে, তা সংসদে তা জানানো উচিত। সেই গ্যাস দেশের প্রতিটি রাজ্যকে সমানভাবে দেওয়ার দাবিও তুলেছেন মমতা।
