রাজনৈতিক সংঘাতের আবহে রাজ্যপাল বদল হয়েছে বাংলায়। তবে তা সত্ত্বেও রাজ্যের ২২তম রাজ্যপাল হিসাবে আর এন রবির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে সৌজন্যের নজির। মুখ্যমন্ত্রীর ব্যবহারে আপ্লুত নতুন রাজ্যপাল। খুশি তাঁর স্ত্রী লক্ষ্মী রবিও।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে রাজ্যপাল ঘরনি লক্ষ্মী রবির সাক্ষাৎ। ছবি: পিটিআই
নির্ধারিত সময়মতো বৃহস্পতিবার লোকভবনে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময় শপথ গ্রহণ স্থলে পৌঁছননি রাজ্যপাল। কিছুটা আগে চলে আসেন স্ত্রী লক্ষ্মী রবি। মুখ্যমন্ত্রীকে রাজ্যপালে স্ত্রীর পরিচয় পাওয়ামাত্র তাঁর কাছে এগিয়ে যান। তাঁর সঙ্গে কথা বলেন। সঙ্গে সঙ্গে গোটা পরিবার এগিয়ে আসেন। বাংলার কৃষ্টি, সংস্কৃতি নিয়ে কথা বলতে শুরু করেন মুখ্যমন্ত্রী। তারপর শুরু হয় শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান। প্রথা মেনে চা চক্রের আয়োজন করা হয়। ওই চা চক্রের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীকে নিজে ডেকে নিয়ে যান রাজ্যপাল।
লোকভবনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আর এন রবির সাক্ষাৎ। ছবি: পিটিআই
দু'জনের আলাপচারিতার মাঝে মমতা রাজ্যপালকে বলেন, "বাংলাকে যাঁরা ভালোবাসেন, বাংলাও তাঁদের ভালোবাসে।" এরপর বিশ্ববাংলা স্টল থেকে আনা উত্তরীয় রাজ্যপালকে পরিয়ে দেন মমতা। তাঁর স্ত্রীকেও উত্তরীয় পরান।
উত্তরীয় পরিয়ে রাজ্যপালকে অভ্যর্থনা মমতার। নিজস্ব চিত্র
রাজ্যপালের স্ত্রীর পিঠে হাত রেখে আর এন রবিকে বলেন, "আমার সঙ্গে বউদির আগেই আলাপ হয়ে গিয়েছে।" একসঙ্গে ছবিও তোলেন তাঁরা।
নবনিযুক্ত রাজ্যপালের স্ত্রীর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজস্ব চিত্র
রাজভবন-নবান্ন সংঘাত নতুন নয়। একসময় জগদীপ ধনকড়ের সঙ্গে নবান্নের সম্পর্ক তেমন মধুর ছিল না। পরবর্তীকালে সিভি আনন্দ বোসের সঙ্গেও রাজ্যের সংঘাত কম হয়নি।
তবে গত ৫ মার্চ, আচমকা প্রাক্তন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসের ইস্তফায় স্তম্ভিত হয়ে যান মুখ্যমন্ত্রী। কী কারণে প্রাক্তন রাজ্যপালের ইস্তফা তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। আনন্দ বোসের আচমকা সরিয়ে দেওয়ার নেপথ্যে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে বলেই দাবি মুখ্যমন্ত্রীর। বর্তমান রাজ্যপাল রবীন্দ্র নারায়ণ রবির বিরুদ্ধেও সুর চড়িয়েছিলেন। ধর্মতলার ধরনা মঞ্চে দাঁড়িয়ে নবনিযুক্ত রাজ্যপালকে 'বিজেপির ক্যাডার' বলে তোপ দেগেছিলেন। আগামিদিনে ফের রাজ্য-রাজ্যপাল সংঘাত তৈরি হবে কিনা, তা এখনই হলফ করে বলা যায় না। তবে শপথ গ্রহণের দিনে মমতার সৌজন্যে মুগ্ধ রবি।
