সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ইডি অভিযানের মাঝেই প্রতীক জৈনের বাড়িতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তাঁর সঙ্গে ছিলেন নগরপাল মনোজ ভার্মাও। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা অর্থাৎ ইডি আধিকারিকরা। এর মাঝেই সেখানে প্রথমে কলকাতা পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা পৌঁছে যান। এরপর ঠিক পাঁচ মিনিটের মধ্যে সেখানে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রীও। গাড়ি থেকে নেমে হেঁটে প্রতীক জৈনের বাড়িতে ঢুকে যান তিনি। যদিও কিছুক্ষণের মধ্যেই একটি সবুজ ফাইল নিয়ে বেরিয়ে আসেন মুখ্যমন্ত্রী। শুধু তাই নয়, সরাসরি অভিযান নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন তিনি।
কয়লা পাচার সংক্রান্ত দিল্লির একটি পুরানো মামলায় এদিন সকাল থেকে প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়ি এবং সল্টলেকের আইপ্যাকের অফিসে তল্লাশি চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা (ED Raid at I-PAC Office)। জানা গিয়েছে, কয়েকবছর আগে এই মামলায় অনুপ মাঝি ওরফে লালাকে দিল্লিতে ডেকে পাঠিয়ে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন কেন্দ্রীয় এই তদন্তকারী সংস্থা। জেরা করা হয় একাধিক ব্যক্তিকেও। শুধু তাই নয়, মামলায় টাকার লেনদেনের সমস্ত তথ্য খতিয়ে দেখেন আধিকারিকরা। সূত্রের খবর, তাঁদের জেরা করেই এবং টাকার লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য খতিয়ে দেখার পরেই প্রতীক জৈনের নাম আসে। এরপর বুধবার রাতে দিল্লির ইডির একটি টিম কলকাতায় চলে আসে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুরু হয় তল্লাশি অভিযান।
প্রতীক জৈনের বাড়িতে ঢোকার সময় মুখ্যমন্ত্রী।
যা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর তরজা। তৃণমূল নেত্রী দাবি করেন, তৃণমূলের গোপন তথ্য এবং প্রার্থী তালিকা চুরি করতেই ইডি অভিযান করিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। মমতা বলেন, “এই অভিযান দুর্ভাগ্যজনক। আমার আইটি দপ্তরে অভিযান চালিয়েছে। দলের সব গোপন নথি এবং প্রার্থী তালিকা চুরি করতে ইডিকে দিয়ে হামলা করেছেন ন্যাস্টি হোম মিনিস্টার। নটি হোম মিনিস্টার।” অন্যদিকে অভিযান চলাকালীন প্রতীক জৈনের বাড়িতে যাওয়া নিয়ে পালটা প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
তিনি বলেন, ''মুখ্যমন্ত্রী আসলে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কাজে বাধা দিয়েছেন। এটা অনৈতিক, অসাংবিধানিক। ইডির উচিত সংবিধান মেনে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া। সেটা না হলে রাজ্যে ভুল বার্তা যাবে।” শুধু তাই নয়, এই প্রসঙ্গে তাঁর বাড়িতে হওয়া সিআইডি তল্লাশি নিয়েও পালটা তোপ দাগেন। বিরোধী দলনেতা বলেন, ''সিআইডি পাঠানো হয়েছিল আমার বাড়িতেও। প্রবীণ মা,বাবাকে হেনস্থা করেছেন। আসামী খোঁজার নামে নন্দীগ্রাম পার্টি অফিসে তল্লাশি চালিয়ে সব কিছু তছনছ করেছেন।'' প্রতিহিংসা ওনার মুখে মানায় না বলেও মন্তব্য শুভেন্দু অধিকারীর।
