দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষের ঘটনায় রবিবার রাতে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গোলপার্কের (Golpark) কাঁকুলিয়া রোড। ঘটনাকে কেন্দ্র করে গুলি (Firing) এবং বোমা (Bombing) চলে বলেও উঠছে অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, এলাকা দখলকে কেন্দ্র করে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাত একেবারে রণক্ষেত্রের আকার নেয়। শুধু তাই নয়, এর পিছনে এলাকার সোনা পাপ্পু এবং তাঁর দলবল আছে বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের। কিন্তু কে এই সোনা পাপ্পু? কার মদতে তাঁর এই বাড়বাড়ন্ত। ইতিমধ্যে অভিযুক্ত পাপ্পুর সঙ্গে একাধিক শাসকদলের নেতার ছবি সামনে আসছে।
অভিযুক্ত সোনা পাপ্পুর আসল নাম বিশ্বজিত পোদ্দার। কসবার, তোপসিয়া এলাকার বাসিন্দা। এলাকার মানুষের কাছে পাপ্পু নামেই পরিচিত ছিলেন বিশ্বজিত। জানা যায়, পরিবারের দীর্ঘদিনের সোনার ব্যবসা এবং দোকান রয়েছে। স্থানীয়দের কথায়, মাঝে মধ্যেই সেই দোকানেও দেখা যেত পাপ্পুকে। আর সেখান থেকেই ধীরে ধীরে অপরাধের জগতে নিজের সাম্রাজ্য বিস্তার! শুধু তাই নয়, কসবা, তোপসিয়া এলাকায় 'ত্রাস' হয়ে ওঠেন এই সোনা পাপ্পু। এর মধ্যেই ২০১৫ সালে বালিগঞ্জ রেল ইয়ার্ডে এলাকা দখলের নামে যে সংঘর্ষ হয়েছিল, তাতেই এই পাপ্পুর নাম সামনে আসে। শুধু তাই নয়, পরে ২০১৭ তে একটি খুনের মামলাতেও তাঁর নাম জড়ায়। একটি পৃথক এফআইআরে নাম ছিল তাঁর।
এখানেই শেষ নয়, ২০২১ প্রেসিডেন্সি জেলের বাইরে ২৫ জন সঙ্গীকে নিয়ে প্রতিপক্ষ মুন্না পাণ্ডের উপর হামলার চেষ্টার হয়। সেই ঘটনাতেও এই পাপ্পুর নাম সামনে সামনে আসে। তথ্য বলছে, একাধিক থানায় তোলাবাজি-সহ অন্তত ২০টি বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। কিন্তু এরপরেও বহাল তবিয়তে পাপ্পুকে ঘুরতে দেখা যায়! স্থানীয় মানুষজনের অভিযোগ, শাসকদলের একাধিক নেতার সঙ্গে সোনা পাপ্পুর ঘনিষ্ঠতার কারণেই পুলিশ কিছু বলে না। আর সেই সুযোগে কসবা, তিলজলা, তপসিয়া এলাকায় অবাধ সিন্ডিকেট রাজ কাঁকুলিয়া রোডের ঘটনায় অভিযুক্ত চালান বলেও অভিযোগ।
পুলিশের দাবি, সম্প্রতি প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টায় ছিল অভিযুক্ত ওই সোনা পাপ্পু। বিশেষ করে রবীন্দ্র সরোবর, লেক এলাকাতে তাঁর বিশেষ নজর ছিল বলেও দাবি। আর সেই কারণেই ঢাকুরিয়ার কাঁকুলিয়া রোডে এই হামলা? উঠছে প্রশ্ন।
