সাধারণতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠান হল কলকাতার রেড রোডে। উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস-সহ বিশিষ্টরা। রাজ্য পুলিশের প্রশিক্ষিত বাহিনী, সেনাবাহিনীর একাধিক ইউনিট কুচকাওয়াজে অংশ নেয়। রাজ্যপাল ও মুখ্যমন্ত্রী এদিন রেড রোডে অভিবাদন গ্রহণ করেন। এদিন সকাল থেকেই রেড রোড-সহ ধর্মতলার একাধিক রাস্তায় নিরাপত্তার কড়াকড়ি ছিল। নির্দিষ্ট সময়ে রেড রোডে শুরু হয় প্রজাতন্ত দিবসের অনুষ্ঠান।
মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়।
নির্ধারিত সময়েই রেড রোডে উপস্থিত হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গাড়ি থেকে নেমে পায়ে হেঁটে রেড রোডের মঞ্চে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে আসন গ্রহণ করেছিলেন বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্দিষ্ট সময়ে রেড রোডে উপস্থিত হয়েছিলেন রাজ্যপাল বোসও। এবারের কুচকাওয়াজে অন্যতম বিশেষ আকর্ষণ ছিল একাধিক স্কুলের প্যারেড। পুরুলিয়া সৈনিক স্কুল, মিত্র ইনস্টিটিউশন, সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল, উচ্চ বালিকা বিদ্যামন্দির বড়িশা, লোরেটো হাউসের পড়ুয়ারা প্যারেডে অংশ নিয়েছিল। ছিল ব্যান্ড পার্টিও। এছাড়াও রাজ্যের বিভিন্ন অংশের, পাহাড় থেকে সাগরের সংস্কৃতির সমন্বয়ে একটি প্রদর্শনীও হয়।
রেড রোডে রোবট কুকুর।
এছাড়াও এবার রেড রোডের কুচকাওয়াজে বিশেষ আকর্ষণ ছিল ভৈরব বাহিনী। অতি অল্প সময়ের মধ্যেই ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে শত্রুর উপর। তাই ২৪ ঘণ্টা ইউনিফর্ম পড়ে, হাতে স্বয়ংক্রিয় তৈরি থাকে সেনার ‘ভৈরব ব্যাটেলিয়ন’। আগ্নেয়াস্ত্র হাতে, তাদের মুখের অংশে রং। পরনে ক্যামোফ্লেজ ইউনিফর্ম, মাথায় টুপি, হাতে স্বয়ংক্রিয় রাইফেল। যে কোনও অবস্থায় তাদের তৈরি থাকতে হয়। কোনও নির্দেশ পেলেই শত্রুদের প্রথম ধাক্কা যাতে দেওয়া যায়, সেভাবেই তৈরি করা হয়েছে এই বাহিনীকে। সূত্রের খবর, জম্মু ও কাশ্মীর, রাজস্থান এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের লাইন অফ কন্ট্রোল ও লাইন অফ অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোলে 'ভৈরব ব্যাটেলিয়ন' কে মোতায়েন করা হয়েছে। অতি অল্প সময়ের মধ্যে শত্রুদেশ থেকে হামলার খবর পেলে তাদের রোখার ক্ষমতা রাখে ভৈরব’।
রেড রোডে উপস্থিত হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিন রেড রোডের কুচকাওয়াজে অংশ নেয় সেনাবাহিনীর উভচর যানও। মোটা চাকার এই উভচর যানটি যেন জল অথবা জলাভূমিতে চলাচল করতে পারে, তেমনই পাথুরে রাস্তায়ও সহজে চলতে সক্ষম। ইতিমধ্যেই সেনাবাহিনী দেশের একাধিক জায়গায় বন্যার সময় উদ্ধারকাজের জন্য এই যানকে কাজে লাগিয়েছে। আবার যুদ্ধক্ষেত্রেও সমান পারদর্শিতার সঙ্গে কাজ করতে পারে এই উভচর যান। ছিল ভারতীয় সেনার রোবোটিক মিউল। এই রোবট বাহিনী অত্যাধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগে সেনাবাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে প্যারাডে অংশ নেয়। এছাড়াও প্রথমবার রেড রোডে দেখা গেল ভারতীয় সেনার পঞ্চনাগ বাহিনী। এখান থেকে ড্রোন চালানোও সম্ভব।
রেড রোডে ভৈরব বাহিনী।
রেড রোডের অনুষ্ঠান ঘিরে এলাকা নিরাপত্তার কড়া বলয়ে মোড়া ছিল। নিরাপত্তার স্বার্থে ১৭টি জোনে ভাগ করা হয়েছিল এই এলাকা। প্রতিটি জোনের দায়িত্বে ছিলেন একজন করে উপ নগরপাল, সেক্টর পর্যায়ে সহকারী কমিশনার ও ইনস্পেক্টর পদের অফিসাররা ছিলেন। এছাড়াও প্রায় ২ হাজারের বেশি পুলিশ কর্মী মহানগরে এদিন নিরাপত্তার জন্য মোতায়েন রয়েছে বলে খবর।
