ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে তৃণমূলের। তারপর থেকে বিজেপি ক্রমাগত অত্যাচার করছে বলে অভিযোগ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তাঁর দাবি, কালীঘাটের বাড়ির সামনে প্রতিদিন রাত ১০টায় দু'টি পাগল পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে বিরক্ত করতে মাতালদেরও বিজেপি কাজে লাগাচ্ছে বলেই অভিযোগ তাঁর।
এর আগে একুশে জুলাইয়ে শহিদ সমাবেশের অনুষ্ঠানের আগেও বিজেপির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দাবি করেন মমতা। তিনি জানান, তাঁর বাড়ির সামনে নাকি বেশ কয়েকজন বহিরাগত যুবক সেই সময় ঘোরাঘুরি করছিলেন। জোরে জোরে গান বাজানো হয় বলেও অভিযোগ করেছিলেন। ওই বহিরাগত যুবকদের দৌরাত্ম্যের নেপথ্যে বিজেপির অঙ্গুলিহেলনকেও দায়ী করেছিলেন মমতা। ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের মঞ্চেও সেই একই অভিযোগ করলেন তিনি। মমতার কথায়, "প্রতিদিন রাত ১০টায় দুটো পাগল পাঠিয়ে দিচ্ছে মদ খাইয়ে। গালাগাল দিচ্ছে। মাতালদের কাজে লাগাচ্ছে।" এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এখনও বিজেপির তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এছাড়া এদিনের অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে একাধিক ইস্যুতে বিজেপিকে তোপ দাগেন মমতা। বিজেপিকে আক্রমণ শানিয়ে মমতা বলেন, “বিজেপি হাইলোডেড, হাইভোল্টেজ ভাইরাস। যেখানে যাবে, সর্বনাশ করবে।” যাদবপুর, প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ধরে ধরে বিজেপিকে তুলোধোনা করেন তিনি। তাঁর কথায়, “আমরা বিজেপিকে মানি না, জানি না, চিনি না, শুনি না।” যাদবপুর কাণ্ডে পুলিশকেও একহাত নেন মমতা। তিনি বলেন, “আমার সময়ে পুলিশ মানবিক ছিল। আমি এই পুলিশকে চিনি না। মনে রাখবেন ছাতা কিন্তু সবসময় মাথার উপর থাকবে না। আমাকে নাকি বেরতে দেবে, কত বড় বুকের পাটা।” বিজেপিকে ‘অত্যাচারী’ বলে ছাত্র যুবদের বুক চিতিয়ে লড়াইয়ের বার্তা দেন মমতা। তাঁর কথায়, “রাজনীতি করে ছাত্রদের দমানো যায় না। ছাত্র আন্দোলন হলে বুক পেতে দাঁড়াবেন, বিজেপি হয়ে যাবেন না।”
