সাম্প্রদায়িকতার ঊর্ধ্বে সবসময়ই নিরপেক্ষতার কথা বলে থাকেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। যুগাবতার রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের জন্মতিথিতে ফের সেকথাই মনে করিয়ে দিলেন তিনি। এমনকী সর্বধর্ম সমন্বয় এবং রামকৃষ্ণের শাশ্বত শিক্ষাই যে আদর্শ, মুখ্যমন্ত্রী তাঁর পোস্টে সেটাও তুলে ধরলেন। রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের জন্মতিথিতে তাঁকে প্রণাম জানিয়ে সমাজমাধ্যমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লিখছেন, 'বাংলার ভূমি ধন্য, তাঁর (পড়ুন- রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব) আবির্ভাবে। তাঁর অমৃতবাণী ও সর্বধর্ম সমন্বয়ের আদর্শ আমাদের আলোকবর্তিকা। 'যত মত তত পথ'-এর সেই শাশ্বত শিক্ষা আমাদের মূল মন্ত্র।' একইসঙ্গে দক্ষিণেশ্বর মন্দির, কামারপুকুর এবং সারদা মায়ের জন্মভূমি জয়রামবাটিকে ঘিরে তাঁর সরকার যে সমস্ত উন্নয়ন করেছে তাও এদিন সমাজমাধ্যমে তুলে ধরেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার ঠাকুর রামকৃষ্ণ পরমহংস দেবের জন্মতিথি। সেই উপলক্ষে এদিন বেলুড় মঠ, কামারপুকুরে সকাল থেকে শুরু হয়েছে বিশেষ পুজো-আরতি। ঢল নেমেছে ভক্তদের। সেই উপলক্ষেই এদিন সমাজমাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী আরও লিখছেন, 'মানুষের সেবা করাই হলো প্রকৃত ঈশ্বর সেবা – তাঁর শেখানো এই বাণী সারাজীবন মেনে চলেছি, আগামী দিনেও এই জ্যোতির্ময়ের আশীর্বাদ মাথায় নিয়েই মানুষের পাশে থেকে আমৃত্যু কাজ করে যাব।''
সমাজমাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী লিখছেন, 'মানুষের সেবা করাই হলো প্রকৃত ঈশ্বর সেবা – তাঁর শেখানো এই বাণী সারাজীবন মেনে চলেছি, আগামীদিনেও এই জ্যোতির্ময়ের আশীর্বাদ মাথায় নিয়েই মানুষের পাশে থেকে আমৃত্যু কাজ করে যাব।''
শুধু তাই নয়, উন্নয়নের কথা তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) আরও লিখছেন, 'স্মৃতিধন্য দক্ষিণেশ্বর মন্দিরকে একটি আন্তর্জাতিক মানের রিলিজিয়াস ও ট্যুরিস্ট ডেস্টিনেশন হিসেবে গড়ে তোলার জন্য আমরা অনেক কিছু করেছি। পুণ্যার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য 'রানি রাসমণি স্কাইওয়াক' থেকে শুরু করে, মন্দির চত্বরের আলোকসজ্জা, সৌন্দর্যায়ন ও সংস্কার, নতুন জেটি সহ অনেক কিছুই করা হয়েছে।' এমনকী রেলমন্ত্রী থাকাকালীন দক্ষিণেশ্বর স্টেশনকে কালী মন্দিরের আদলে যে তিনি সাজিয়ে তুলেছিলেন তাও মনে করিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
শুধু দক্ষিণেশ্বর নয়, কামারপুকুর এবিং জয়রামবাটিকে ঘিরেও যে একাধিক উন্নয়ন হয়েছে তাও এদিন সমাজমাধ্যমে জানিয়েছেন প্রশাসনিক প্রধান। লিখছেন, 'পুণ্যভূমি কামারপুকুর এবং সারদা মায়ের জন্মভূমি জয়রামবাটির উন্নয়নের লক্ষেও অনেক কাজ করা হয়েছে। 'জয়রামবাটি কামারপুকুর ডেভেলপমেন্ট বোর্ড’ তৈরি করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই এই বোর্ডকে ১০ কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা করা হয়েছে। এছাড়া, ঠাকুর ও মায়ের আশীর্বাদ ধন্য এই পবিত্র তীর্থক্ষেত্রের পরিকাঠামো উন্নত করতে আমরা আগেই প্রায় ৮০ কোটি টাকারও বেশি ব্যয় করেছি।'
এছাড়াও পর্যটন পরিকাঠামো গড়ে তুলতে ৫ কোটি ৮৭ লক্ষ টাকা এবং প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে উন্নত সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও এদিন সমাজমাধ্যমে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এছাড়াও জয়রামবাটির মাতৃমন্দির সংস্কারেও রাজ্য সরকার যেভাবে উদ্যোগ নিয়েছে তাও তুলে ধরেছেন তিনি।
