আইনজীবীর পোশাকে আদালতের এজলাসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। ৪ ফেব্রুয়ারি এসআইআর রুখতে সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করেছিলেন। তখন ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এখন তিনি প্রাক্তন। এবার রাজ্যের বিরোধী নেতাকর্মীদের ভোটপরবর্তী হিংসা থেকে বাঁচানোর জন্য কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের বেঞ্চে জোরালো সওয়াল করলেন তৃণমূল নেত্রী। এজলাসে দাঁড়িয়ে মমতা বললেন, "এটা বুলডোজার রাজ্য নয়। বাংলার মানুষকে বাঁচান। এটা বাংলা, উত্তরপ্রদেশ নয়।"
এদিন ভোট পরবর্তী হিংসা মামলায় তৃণমূলের তরফে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যর পাশাপাশি সওয়াল করেন দলনেত্রী মমতা নিজে। কিন্তু সওয়াল শুরুর আগেই তাঁর উদ্দেশে কটাক্ষ ভেসে আসে। জনৈক আইনজীবী বলে ওঠেন, 'এখানে নাটক করবেন না।' জবাবে মমতা বলেন, 'আমি ১৯৮৫ সাল থেকে আইনজীবী। এবং সেই হিসাবেই আমি সওয়াল করতে চাই।' তৃণমূল সুপ্রিমোর অভিযোগ, "৯২ বছরের বৃদ্ধ, ১৮ বছরের দম্পতিকেও বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছে। তফশিলি জাতি, সংখ্যালঘুদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।" এমনকী তাঁকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে থানা পর্যন্ত যেতে দেওয়া হচ্ছে না বলে দাবি করেন তৃণমূল নেত্রী।
কলকাতা হাই কোর্টে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। পিন্টু প্রধান।
আদালতে দাঁড়িয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, "আমাকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পুলিশের কাছে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। অনলাইনে অভিযোগ জানাতে হচ্ছে। ১২ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণের হুমকি দেয়া হচ্ছে। মাছ-মাংসের দোকান বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।" এরপর একপ্রকার কাতর স্বরে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সওয়াল, "বাংলার মানুষকে বাঁচান। এটা বাংলা, উত্তরপ্রদেশ নয়।" তৃণমূলের তরফে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আরও একাধিক অভিযোগ তোলেন। ভোট পরবর্তী হিংসায় যে ১০টি মামলা হয়েছে, সেগুলিকে একত্রিত করে শুনানির দাবি জানান তিনি। পালটা পুলিশের তরফে দাবি করা হয়, "কোথায় কোথায় অশান্তি হয়েছে সেগুলি নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি, অথচ ২০০০টি গন্ডগোলের কথা বলা হচ্ছে। পুলিশ কাজ করছে, কেউ অপরাধ করে থাকলে পুলিশ নিশ্চই ব্যবস্থা নেবে এবং নিচ্ছে।" পুলিশের দাবি, "যেখানে যা গন্ডগোল হচ্ছে তার সবটাই ভোট পরবর্তী সন্ত্রাস নয়। তদন্ত চলছে।"
সওয়াল শেষে এজলাস থেকে বেরিয়ে আইনজীবীদের একাংশের বিক্ষোভের মুখে পড়েন মমতা। তৃণমূলনেত্রীকে লক্ষ্য করে ওঠে ‘চোর’ স্লোগান এবং অন্য কুকথাও। জয় শ্রীরাম ধ্বনিও তোলেন বিজেপিপন্থী আইনজীবীরা। কোনওক্রমে তৃণমূলপন্থী আইনজীবীরা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে কোনওক্রমে এজলাস থেকে বের করে নিয়ে যান।
