বদলের বাংলায় রাস্তায় নেমেই বেনজির জনরোষের মুখে পড়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। শনিবার সোনারপুরে নিহত দলীয় কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার পথে তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম, জুতো, কাদা ছোড়া হয়। জনতার আক্রমণে তাঁর জামা, চশমা, ঘড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এহেন হামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানালেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। এক্স হ্যান্ডলে তিনি লিখলেন, 'শাসকই ঘাতক হয়ে উঠল! বিজেপির লজ্জা হওয়া উচিত!'
সন্ধ্যার পরই এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বর্তমানে রাজ্যের বিজেপি শাসকদের 'ঘাতক' বলে তীব্র আক্রমণ করেন তিনি। এহেন পরিস্থিতি বিজেপির পক্ষেই লজ্জাজনক বলে মন্তব্য তাঁর।
শনিবার বিকেলে সোনারপুরের কামরাবাঁধ যাওয়ার পরে প্রথমে কামালগাজির কাছে জনতার বাধার মুখে পড়েন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে মহিলারা কালো পতাকা দেখান। সেসব পেরিয়ে সোনারপুর ঢুকতেই জনতা রীতিমতো বিক্ষোভ বিস্ফোরণের আকারে ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমে 'চোর' স্লোগান ওঠে। এরপর তাঁকে লক্ষ্য করে একের পর এক ডিম ছোড়া হতে থাকে। জামাকাপড় নোংরা হয়ে যায় তাঁর। ছোড়া হয় জুতো, ঢিল, কাদা। জামা খুলে চলে মারধরও। মাথায় হেলমেট পরে কোনওক্রমে রক্ষা পান তিনি। তবে অভিষেক চশমা, ঘড়ি ভেঙে গিয়েছে। এসব সামলে তিনি নিহত কর্মীর বাড়িতে পৌঁছে যান। সেখান থেকেই জানান, পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনী না এলে তিনি বাড়ি থেকে বেরবেন না। এরপর বাহিনী সেখানে পৌঁছে নিরাপদে তৃণমূল সাংসদকে বের করে নিয়ে যায়।
এসবের পরিপ্রেক্ষিতে সন্ধ্যার পরই এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বর্তমানে রাজ্যের বিজেপি শাসকদের 'ঘাতক' বলে তীব্র আক্রমণ করেন তিনি। এহেন পরিস্থিতি বিজেপির পক্ষেই লজ্জাজনক বলে মন্তব্য তাঁর। অভিষেককে ঘিরে এই বিক্ষোভ এতটাই হিংসাত্মক হয়ে ওঠে যে তা জনরোষ বলে মেনে নিয়েও তার নিন্দা করেছেন কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, সমাজবাদী পার্টির সুপ্রিমো অখিলেশ যাদবরা। এক্স হ্যান্ডলে তাঁদের বক্তব্য, 'পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং কেন্দ্রীয় সরকারকে অবশ্যই সব বিরোধী নেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এই ধরনের হামলা রুখতে অবিলম্বে পদক্ষেপ নিতে হবে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু হিংসার ঘটনা কখনই সমর্থনযোগ্য হতে পারে না।'
