ধ্রুবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়: বিজেপি-বিরোধী ফেডারেল ফ্রন্টের মঞ্চ অনেকটাই প্রস্তুত। একের পর এক নির্বাচন, সরকার গঠনের মুহূর্তে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দেশজুড়ে মমতাকে ঘিরে জোরালো উচ্ছ্বাস। সেই উচ্ছ্বাসকে উন্মাদনার রূপ দিতে জাতীয় মঞ্চে এবার পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে মমতার একুশের লড়াইয়ের ভিডিও!
২১ জুলাই তৃণমূলের সবচেয়ে বড় কর্মসূচি। প্রধান বক্তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। লোকসভা ভোটের আগে শেষ শহিদ দিবসের এই কর্মসূচি থেকে বিজেপি-বিরোধী লড়াইয়ের অঙ্গীকার করবে তৃণমূল। বলতে গেলে দিল্লির লড়াইয়ের ময়দানে নামার আগে আনুষ্ঠানিক শাঁখ বাজবে বাংলার মাটি থেকে। দামামা বেজে যাবে যুদ্ধের। তার প্রস্তুতিকে দলের ফেসবুক পেজে ‘ইভেন্ট’-এ সাজিয়ে তুলে ধরল তৃণমূল। ‘ধর্মতলা চলো’ ডাক দিয়ে দলীয় পেজের সেই ইভেন্টেই পরতে পরতে চলবে মমতার একুশের লড়াই। ১৯৯৩-এর ২১ জুলাই কী ঘটনা ঘটেছিল ধর্মতলা চত্বরে, কী হয়েছিল মমতার সঙ্গে, কখন গুলি ছুটল- ছোট ছোট ভিডিও-র মাধ্যমে সবটুকু তুলে ধরা হবে দলের ফেসবুক পেজে। কেবল দলের ফেসবুক পেজে ইভেন্টের মাধ্যমেই প্রচার নয়, ২১ জুলাই-কে কেন্দ্র করে খোলা হয়েছে নয়া ফেসবুক পেজ৷ সেখানেও চালানো হচ্ছে একই ধরনের প্রচারপর্ব৷
[ব্যাটারি খেল খুদে! খাদ্যনালিতে সফল অস্ত্রোপচার করে শিশুকে বিপন্মুক্ত করল মেডিক্যাল]
এমনিতেই মমতার একুশের কর্মসূচি ঘিরে থাকে প্রবল উন্মাদনা। দলের কর্মী ছাড়াও রাজ্যের সব জায়গা থেকে ছাত্র-যুবকে সেই উন্মাদনায় ভাসিয়ে এনে লড়াইয়ের ময়দানে নামানোটাই এই ইভেন্টের অন্যতম উদ্দেশ্য। দলের এক সিনিয়র সাংসদের কথায়, “মানুষ মমতার লড়াই দেখতে চায়। উনিশের যুদ্ধে মমতার লড়াইকেই হাতিয়ার করে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে জাতীয় মঞ্চে তুলে ধরা হবে। একুশের কর্মসূচি পর্যন্ত নেত্রীর একুশের সেই লড়াইয়ের ভিডিওই লাগাতার চলবে দলের ফেসবুক পেজে।” তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব জানাচ্ছে, প্রতিবারই ২১ জুলাইয়ের আগে রাজ্যজুড়ে প্রস্তুতি সভা হয়, প্রচার চলে। ধর্মতলার কর্মসূচিতে জমায়েতের জন্য তৈরি হয় দল। এবার সেই কাজগুলোও হবে। পাশাপাশি প্রস্তুতি সভা থেকে শুরু করে এই কর্মসূচি নিয়ে একাধিক আলোচনা চলবে এই পেজে। যার মাধ্যমেই কর্মসূচির টানে দলের আহ্বানে সোশ্যাল মিডিয়াতেও তৈরি হবে প্রবল উন্মাদনা। ফল, আরও বেশি মানুষকে এই লড়াইয়ে শামিল করা।
[বাংলার প্রাক্তন ফুটবলারের রহস্যমৃত্যু, রেললাইনের ধারে মিলল দেহ]
এর আগে মহিলা দিবসে প্রথম এমনই একটি ইভেন্ট তৈরি করেছিল দল। কিন্তু তখন দলের সোশ্যাল মিডিয়া সেল সেভাবে সামনে আসেনি। কিন্তু পেশাদারদের হাতে প্রশিক্ষণের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় জমিয়ে বসেছে তৃণমূল। প্রচারে সোশ্যাল মিডিয়াকে কাজে লাগিয়ে এখনও পর্যন্ত তুমুল সাফল্য পেয়েছে কেন্দ্রের শাসকদল বিজেপি। সেই বিজেপির রাজ্য শাখা দল হয়েও তারা এখনও সেভাবে সোশ্যাল মিডিয়ার প্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে পারেনি। সোশ্যাল মিডিয়ার সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে জাতীয় মঞ্চে মমতার লড়াইকে তুলে ধরেই দেশজুড়ে উন্মাদনা তৈরি করতে চাইছে তৃণমূল। আপাতত যাদের দলীয় পেজ খুললেই কভার ফোটোয় ভেসে উঠবে নেত্রীর ছবি। ইভেন্টে মিলবে শহিদ দিবসের কমর্সূচির বার্তা। দিনেরাতে যে ইভেন্টের লাইক বাড়ছে লাফিয়ে। ‘ইন্টারেস্টেড’-এ টিক পড়ছে দ্রুত। যোগদানের সংখ্যা বাড়ছে তার চেয়ে কয়েক গুণ গতিতে।
The post দেশজুড়ে ২১ জুলাই-এর প্রচারে আস্থা সোশ্যাল মিডিয়ায় appeared first on Sangbad Pratidin.
